সৌদি আরবের কফিলকে (মালিক) নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে তাহিরপুর উপজেলা বালিজুরি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মাকসুদ আখঞ্জি নামে এক প্রবাসী। এ সময় হেলিকপ্টার দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেখা যায়।
উপজেলার রাজ নগর গ্রামে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মাঠে হেলিকপ্টারে এসে নামেন তারা।
সৌদি আরবের ওই নাগরিকের নাম মিশাল আমি য়ামী। সৌদি প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি রামনগর গ্রামের শাহ আলম আখঞ্জির ছেলে। তিনি ৫ বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের গিয়েছিলেন।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি জানান, কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমি য়ামী মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। চাকরির সুবাদে মালিকের (কফিল) সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় তার। শক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তারা। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঢাকা থেকে বালিজুরি আসেন।
এদিকে প্রবাসী মাকসুদের সঙ্গে তার সৌদি কফিলের গ্রামে আসার খবরে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা মাকসুদের বাড়ির পাশে মাঠে ভিড় করে। সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার জন্য তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। এ সময় মাকসুদ আখঞ্জির বাবা শাহ আলমসহ স্থানীয় লোকজন মিশাল আমি য়ামীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
স্থানীয় সমাজসেবক মশিউর রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন মাকসুদ আখঞ্জির মতো তাদের কফিলের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।
কপিল মিশাল আমি য়ামী বলেন, “মাকসুদ অত্যন্ত ভাল ছেলে। আমি মাকসুদকে পছন্দ করি। মাকসুদ আমার সকল ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করে। আমি মাকসুদের মতো আরও শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে নিতে চাই। প্রথমদিন এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে। আমার পছন্দের একটি দেশ বাংলাদেশ। এ সময় মাশা আল্লাহ মাশা আল্লাহ বাংলাদেশ বলে অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবাসী মাকসুদ আখঞ্জি বলেন, আমার কফিল (মালিক) একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি বাংলাদেশ খুব পছন্দ করেন। কাজ করার সময় প্রায়ই বলতেন, আমি তোমার দেশে যাব। তাই তাকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা আগে থেকে চিন্তা করি তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামে যাব। সে জন্য ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে চলে আসি। তিনি এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। পরে একসঙ্গে আবার সৌদিতে চলে যাব।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 


















