সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়িবাঁধা অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় সনাক্ত করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯)। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। থাকতেন সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ৩৪/৪১ নম্বর বাসায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কোনারবন্দ হাওরে একজনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। থানায় জানালে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি একজন লন্ডন প্রবাসী। পিতার নাম মৃত সমছু মিয়া। বুরহান উদ্দিন গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি জিডি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা হাওরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আগুনে পোড়া দাগ ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
তাদের ধারণা, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় সনাক্ত করে। পরে নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা কোন থানায় দায়ের করা হবে সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
















