সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক বিভাজক, ব্রিজ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, এমনকি যানবাহনেও সাঁটানো হয়েছে প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। এর মধ্যে অপচনশীল পিভিসি প্লাস্টিক ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব অনিয়ম চোখে পড়লেও তা নজরে আসছে না নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর মাত্র ১০ দিন। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে প্রার্থীদের প্রচারণা ততই বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও। গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো অপচনশীল উপাদানে তৈরি ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনাসহ কোনো যানবাহনে প্রচারসামগ্রী সাঁটাতে পারবেন না।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের প্রায় সব প্রার্থীর ক্ষেত্রেই এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। নগরী থেকে শুরু করে উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছয়লাব হয়ে গেছে ডিজিটাল পোস্টার ও প্লাস্টিক ব্যানারে।
সচেতন মহল বলছে, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রার্থীরা প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সুষ্ঠু ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচনের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

















