নির্বাচনের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের নির্বাচনী মাঠে দ্রুত বদলে যাচ্ছে চিত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসন। ১১ দলীয় জোটের সক্রিয় সমর্থনে এই আসনে নতুন গতি পেয়েছে নির্বাচন, যা বিএনপির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-৩ এ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেকের বিপরীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠে দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করেছেন তিনি।
শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণা হলেও জোটের সব শরিক দল একযোগে রিকশা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামায় প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন মাওলানা রাজু। এতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে বলে দাবি করছেন তার সমর্থকরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং এম এ মালেকের দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান ভোটের হিসাবকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, এলাকার সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকা প্রার্থীই সংসদ সদস্য হিসেবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে বেড়ে ওঠা প্রার্থী হিসেবে মাওলানা রাজুর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষা, সমাজসেবা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। জোটের নেতাকর্মীরাও তাকে নতুন করে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
প্রচারণার সময় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলছেন মাওলানা রাজু। তিনি বলেন,
“রাজনীতিতে শালীনতা থাকা জরুরি। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব কর্মসূচি ও আদর্শ দিয়ে।”
উল্লেখ্য, শুরুতে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিসের অন্যান্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় ছিলেন। পরে জোটগত সিদ্ধান্তে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে সবাই তার পক্ষে একযোগে কাজ শুরু করেন।
সব মিলিয়ে, ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে সৃষ্ট নতুন গতিতে সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। সময় যত এগোচ্ছে, বিএনপির জন্য এই আসনে লড়াই ততই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে বিজয়—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
















