জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলটির অবস্থান হবে আপসহীন এবং জনগণের সম্পদ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার হবিগঞ্জে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। তারা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি কিংবা বিশেষ সুবিধায় প্লট গ্রহণ করবেন না। প্রয়োজন হলে সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি হবে সেবার জন্য, ভোগের জন্য নয়।
তিনি আরও জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা অতীতে দেশ পরিচালনা করেছেন, তারাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় গিয়ে অনেকেই তা ভুলে যান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তিনি ‘আজাদি বনাম গোলামি’র লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই ভোট দেশের রাজনীতির চরিত্র বদলে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। জামায়াত এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে পরিচয় নয়—যোগ্যতা ও মেধাই হবে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও ওসমান হাদীদের কথা স্মরণ করেন। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াত অঙ্গীকারবদ্ধ।
জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করতে হবে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 


















