সিলেটে এক নারীকে ‘লন্ডনী কন্যা’ পরিচয়ে বিয়ে করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ওসমানীনগর থানার নিজ কুরুয়া ১০ মাইল গ্রামের বাসিন্দা মনির আহমদের ছেলে মাসরুল আহমদ। বিয়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মাসরুল আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর নগরীর কুয়ারপাড় এলাকার নুরজাহান ভিলার বাসিন্দা মনির চৌধুরীর মেয়ে তাছিন চৌধুরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাছিন নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক দাবি করে বলেন, তার বাবা-মা লন্ডনে বসবাস করেন। বিয়ের বিষয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তাছিন তার চাচা পরিচয়ধারী একই এলাকার বাসিন্দা লাবলু মিয়ার (৫৫) সঙ্গে মাসরুলের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। এর আগেই ‘ঋণ’ হিসেবে মাসরুলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রসেসিংয়ের কথা বলে তার পাসপোর্টও বুঝে নেয়া হয়।
মাসরুল অভিযোগ করেন, বিয়ের এক মাসের মধ্যেই তাছিনের আচরণে পরিবর্তন আসে। মোবাইলে দীর্ঘ সময় পরপুরুষের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে প্রতিবাদ করলে তা উপেক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাছিন, লাবলু ও তাদের স্বজনরা হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি বিয়েটি ভুয়া ডকুমেন্টে হয়েছে দাবি করে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্ত করে জানতে পারেন বিয়ের সময় ব্যবহৃত তাছিনের জন্মনিবন্ধন সনদটি জাল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ প্যাডে স্বাক্ষর করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে আরও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই চক্রটি এর আগেও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে।
মাসরুল বলেন, তাছিনের প্রকৃত বাড়ি নেত্রকোনায় হলেও তিনি নিজেকে সিলেটি পরিচয় দিয়ে নগরীতে একা বসবাস করেন এবং বিয়ের নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, গত ৩০ জানুয়ারি শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৬৩৪) এবং এর আগে ২০ জানুয়ারি ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালী আমলি আদালতে একটি মামলা (সিআর নং–৯৭) দায়ের করেছেন।
এছাড়া তাছিন-লাবলু চক্র গত বছরের ২৪ নভেম্বর লিগ্যাল এইড অফিসে ডিভোর্স ও ভরণপোষণের আবেদন করে অভিযোগ করেন যে, মাসরুল নাকি তার কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা নিয়েছেন। অভিযোগে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভরণপোষণও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন মাসরুল।
তিনি বলেন, তাছিন বিভিন্ন জন্মনিবন্ধন কার্ড ব্যবহার করে একাধিক সিম চালান, যা তার জালিয়াতির প্রমাণ। এ অবস্থায় নিজের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আদালত, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে তাছিন চৌধুরী মাসরুলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে হয়রানি করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি তার সঙ্গে সংসার করতে চাই না বলেই ডিভোর্স চেয়েছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক 

















