আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোট কেনার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনি পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
শনিবার দুপুরে নগরীর কাজিটুলা এলাকায় সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা যখন তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই একটি স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশজুড়ে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একটি দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।
কয়েস লোদি আরও বলেন, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় কোমলমতি শিশু ও নারীদের টার্গেট করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনি প্রচারণায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে পুঁজি করে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি দাবি করেন, নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।
ভোট কেনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়। কয়েস লোদি বলেন, তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া অবৈধ ব্যালট পেপার, সিল ও কালি উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ ও বিতরণের অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে এবং ভোটারদের মধ্যে অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
শেষে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সব সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এ সময় জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















