, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পরিবেশ রক্ষা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে: আরিফুল হক চৌধুরী ‘ওয়েলকাম, আওয়ার দাদু ইজ দ্য নেক্সট পিএম’ : সিলেটজুড়ে আলোচনায় জামায়াত আমীরের ব্যানার বিএনপির বিদ্রোহে চাপে জমিয়ত, সিলেট-৫ এ ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে ১১ দলীয় প্রার্থী আবুল হাসান সিলেটে কিশোরদের কথাকাটাকাটি থেকে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ১৫ আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন জমে না: ফেসবুক পোস্টে বিতর্কে সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আকবর হোসাইন সিলেটে নিখোঁজের দুদিন পর প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩ বহিস্কার প্রত্যাহার: বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরে পেলেন শফি আহমেদ চৌধুরী সুনামগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী বহিষ্কার সিলেট–ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেন হুমায়ুন কবীর দিরাইয়ে দৈনিক যুগান্তরের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বিএনপির বিদ্রোহে চাপে জমিয়ত, সিলেট-৫ এ ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে ১১ দলীয় প্রার্থী আবুল হাসান

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। জোট রাজনীতি, দলীয় বিদ্রোহ এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণে এ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের কারণে চাপে পড়েছে জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী, আর এই পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল হাসান।

এ আসনে বিএনপি নিজ দলের ধানের শীষের কোনো প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি, খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তবে দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই বিদ্রোহই এখন জমিয়ত প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে চাকসু মামুনের পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এতে বিএনপি-জোট সমর্থিত প্রার্থীর ভোটব্যাংক ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, শুরুতে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকলেও ১১-দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট জেলার উপদেষ্টা মাওলানা মুফতি আবুল হাসানকে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ১১-দলীয় জোটভুক্ত শরিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মুফতি আবুল হাসানের পক্ষে মাঠে নামে। এতে খুব অল্প সময়েই নির্বাচনী মাঠের চিত্র বদলে যায়।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমানে মুফতি আবুল হাসান ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। ১১-দলীয় জোটের সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয়তা এবং সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চাকসু মামুন স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ধরে রাখলেও দলীয় বিভক্তির কারণে জোট প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুককে পড়তে হচ্ছে বাড়তি চাপে।

এ বিষয়ে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল হাসান বলেন,
“জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ আমাকে যেভাবে গ্রহণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা আমাকে এ এলাকার মানুষের খাদিম হিসেবে কবুল করেছেন। সাধারণ মানুষ নিজের খরচে দিন-রাত মাঠে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ, দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে।”

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক দাবি করেন, বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী তার পক্ষেই রয়েছেন এবং বিদ্রোহীদের প্রভাব সীমিত। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ বলেন, তৃণমূলের বিএনপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৯১১ জন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—বিএনপির বিদ্রোহ ও জোটের ঐক্যই এ আসনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয়

পরিবেশ রক্ষা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে: আরিফুল হক চৌধুরী

বিএনপির বিদ্রোহে চাপে জমিয়ত, সিলেট-৫ এ ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে ১১ দলীয় প্রার্থী আবুল হাসান

প্রকাশের সময় : ১০ ঘন্টা আগে

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। জোট রাজনীতি, দলীয় বিদ্রোহ এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণে এ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের কারণে চাপে পড়েছে জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী, আর এই পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল হাসান।

এ আসনে বিএনপি নিজ দলের ধানের শীষের কোনো প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি, খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তবে দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই বিদ্রোহই এখন জমিয়ত প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে চাকসু মামুনের পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এতে বিএনপি-জোট সমর্থিত প্রার্থীর ভোটব্যাংক ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, শুরুতে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকলেও ১১-দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট জেলার উপদেষ্টা মাওলানা মুফতি আবুল হাসানকে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ১১-দলীয় জোটভুক্ত শরিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মুফতি আবুল হাসানের পক্ষে মাঠে নামে। এতে খুব অল্প সময়েই নির্বাচনী মাঠের চিত্র বদলে যায়।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমানে মুফতি আবুল হাসান ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন। ১১-দলীয় জোটের সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয়তা এবং সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চাকসু মামুন স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ধরে রাখলেও দলীয় বিভক্তির কারণে জোট প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুককে পড়তে হচ্ছে বাড়তি চাপে।

এ বিষয়ে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল হাসান বলেন,
“জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ আমাকে যেভাবে গ্রহণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা আমাকে এ এলাকার মানুষের খাদিম হিসেবে কবুল করেছেন। সাধারণ মানুষ নিজের খরচে দিন-রাত মাঠে কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ, দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে।”

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক দাবি করেন, বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী তার পক্ষেই রয়েছেন এবং বিদ্রোহীদের প্রভাব সীমিত। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ বলেন, তৃণমূলের বিএনপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৯১১ জন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—বিএনপির বিদ্রোহ ও জোটের ঐক্যই এ আসনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।