সিলেটে দুই কিশোরের কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিলেট নগরের জালালাবাদ থানার তেমুখী এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে কুমারগাঁও গ্রামের পক্ষে নাজিরেরগাঁও এবং সাহেবেরগাঁও গ্রামের পক্ষে ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। এভাবে পাঁচ গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাতের বেলা সড়কে আটকে পড়ে বিভিন্ন যানবাহন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর সংঘর্ষ থেমে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কারও গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি এবং আহতদের নাম-পরিচয়ও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় শুরুতে রাজনৈতিক বিরোধের গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ তা নাকচ করেছে। দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সংঘর্ষের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই কিশোরের কথাকাটাকাটি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

















