সিলেট নগরে এখন রাজনীতির চেয়ে বেশি আলোচনায় একটি বাক্য ‘ইবার দিলাইতাম’। কোনো ছবি নেই, নেই প্রার্থীর নাম বা বড় কোনো স্লোগান। তবুও এই এক লাইনের ফেস্টুনই নগরের রাজপথ থেকে অলি-গলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কৌতূহল আর আলোচনা।
আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, চৌহাট্টা, শাহজালাল উপশহরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঝুলে থাকা ফেস্টুনগুলো দেখে অনেকেই প্রথমে বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেউ ভেবেছেন এটি সামাজিক বার্তা, কেউবা মনে করেছেন কোনো বাণিজ্যিক প্রচারণা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে এটি জামায়াতে ইসলামীর ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচার কৌশল।
নগরের চায়ের দোকান, রিকশার পেছনের সিট কিংবা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে সেই প্রশ্ন ইবার দিলাইতাম মানে কী? অনেকের মতে, এই প্রশ্নটাই তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
এক দোকানদার বলেন, আগে ব্যানারে এত লেখা থাকত যে কেউ পড়ত না। এখন এক লাইনের লেখাটাই সবাই পড়ছে, কথা বলছে এটাই বড় ব্যাপার।
ফেস্টুনের কিছু অংশে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রতীক থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা চেয়েছি মানুষের ভাষায়, মানুষের ভাবনার কাছাকাছি যেতে। সিলেটি ভাষায় বলা একটি ছোট বাক্য অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে এটাই প্রমাণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন মানুষ পোস্টার পড়ে না, গল্প করে। ‘ইবার দিলাইতাম’ সেই গল্প তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বক্তব্য বা জটিল স্লোগানের বাইরে গিয়ে মাত্র এক লাইনের বার্তায় জনমনে আলোড়ন তোলা সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক প্রচারণায় এক নতুন দৃষ্টান্ত। সিলেট নগরে ‘ইবার দিলাইতাম’ এখন শুধু ফেস্টুন নয়—এটি হয়ে উঠেছে আলোচনার ভাষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















