, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের স্মার্টফোন চুরি, থানায় জিডি দক্ষিণ সুরমায় সীতারামী খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মালিক  সিলেটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযোগ করুন: কল সেন্টার চালু, নগরে সতর্কবার্তা স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে মহান শহীদ দিবস উদযাপন মৌলভীবাজারে অটোরিকশা-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ সিলেটে পপুলার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, মৃত ব্যক্তির দুই ডেথ সার্টিফিকেট ঘিরে বিতর্ক মৌলভীবাজারে বোনের বাড়িতে ইফতারি পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু সিলেটে জসীম উদ্দিন খন্দকারের ৩টি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান মন্ত্রী আরিফুল হককে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ফুলেল শুভেচ্ছা ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’ : ঐতিহ্য না সামাজিক জুলুম?

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে মহান শহীদ দিবস উদযাপন

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব।
ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার লক্ষ্যে কলেজে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর জয়নুল আবেদিন চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যে আত্মত্যাগ আমাদের ভাষা শহিদরা করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। এই আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—অধিকার আদায়ে ঐক্য, সাহস ও দৃঢ়তার বিকল্প নেই। আমাদের উচিত ভাষা শহিদদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল বিকাশে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। নতুন প্রজন্ম যদি মাতৃভাষাকে ভালোবাসে, তার সঠিক ব্যবহার শেখে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলার মর্যাদা তুলে ধরতে সক্ষম হয়, তবেই একুশের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

সভাপতি মো. ফয়জুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। একুশ আমাদের ন্যায়বোধ, সাহস, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারি, তবে তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল পাঠদান নয়; বরং তাদের আদর্শ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। মহান শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসা মানেই নিজের অস্তিত্বকে ভালোবাসা। তাই একুশের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের শিক্ষা, আচরণ ও কর্মে তা প্রতিফলিত করতে হবে।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রভাষক মাওলানা ফয়সল আহমেদ এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রভাষক জুই রাণী তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মীর হোছাইন সরকার।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক জয়া সরকার, প্রভাষক মুহিয়ারা বেগম (ইংরেজি বিভাগ) এবং প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন (বায়োলজি বিভাগ)।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন প্রভাষক হাছান শাহরিয়ার মজুমদার, প্রভাষক সাগর আহমেদ, প্রভাষক জুই রাণী তালুকদারসহ অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের আবৃত্তিতে একুশের চেতনা ও ভাষা শহিদদের স্মরণে পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।

অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রভাষক মাওলানা ফয়সল আহমেদ। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সমগ্র আয়োজন ছিল সুশৃঙ্খল, তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয়। মহান শহিদ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

জনপ্রিয়

সিলেটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের স্মার্টফোন চুরি, থানায় জিডি

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে মহান শহীদ দিবস উদযাপন

প্রকাশের সময় : ৯ ঘন্টা আগে

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ-এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব।
ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার লক্ষ্যে কলেজে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর জয়নুল আবেদিন চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যে আত্মত্যাগ আমাদের ভাষা শহিদরা করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। এই আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—অধিকার আদায়ে ঐক্য, সাহস ও দৃঢ়তার বিকল্প নেই। আমাদের উচিত ভাষা শহিদদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল বিকাশে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। নতুন প্রজন্ম যদি মাতৃভাষাকে ভালোবাসে, তার সঠিক ব্যবহার শেখে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলার মর্যাদা তুলে ধরতে সক্ষম হয়, তবেই একুশের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

সভাপতি মো. ফয়জুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। একুশ আমাদের ন্যায়বোধ, সাহস, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারি, তবে তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল পাঠদান নয়; বরং তাদের আদর্শ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। মহান শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসা মানেই নিজের অস্তিত্বকে ভালোবাসা। তাই একুশের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের শিক্ষা, আচরণ ও কর্মে তা প্রতিফলিত করতে হবে।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রভাষক মাওলানা ফয়সল আহমেদ এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রভাষক জুই রাণী তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মীর হোছাইন সরকার।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শাখার সহকারী শিক্ষক জয়া সরকার, প্রভাষক মুহিয়ারা বেগম (ইংরেজি বিভাগ) এবং প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন (বায়োলজি বিভাগ)।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন প্রভাষক হাছান শাহরিয়ার মজুমদার, প্রভাষক সাগর আহমেদ, প্রভাষক জুই রাণী তালুকদারসহ অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের আবৃত্তিতে একুশের চেতনা ও ভাষা শহিদদের স্মরণে পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।

অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রভাষক মাওলানা ফয়সল আহমেদ। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সমগ্র আয়োজন ছিল সুশৃঙ্খল, তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয়। মহান শহিদ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।