সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ–হেতিমগঞ্জ ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেওয়ান সড়কে চার বছর ধরে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। ২০২২ সালে সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলেও নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগে রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত মুঘল আমলের ঐতিহাসিক ‘দেওয়ান পুল’ আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকেই ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়ক।
ঐতিহাসিক স্থাপত্য হিসেবে পুলটি সংরক্ষণের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর–এর একটি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে এটিকে ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ব্রিজটি না ভেঙে সংরক্ষণের সুপারিশ জানায়। তবে নানা জটিলতায় সংস্কার বা সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ফলে গোলাপগঞ্জ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিলেট-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী সড়ক ও ভাঙা ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। এ সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান পুল সংরক্ষণ করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের তাগিদ দেন।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ঐতিহ্যবাহী পুল সংরক্ষণ করে ব্রিজের পাশে একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ১০ কিলোমিটার সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করে সংস্কারের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে। এতে এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমপি আরও বলেন, শপথ নেওয়ার পরদিনই তিনি এলাকায় এসেছেন এবং জনগণের সহযোগিতা নিয়ে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবেন।
চার বছর ধরে ঝুলে থাকা এই সড়ক ও ঐতিহ্যবাহী পুলের ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে আশার আলো দেখছে—বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এবার যেন বাস্তবেই শুরু হয় কাজ।

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি 


















