বাংলার লোকজ সংস্কৃতি আর গ্রামীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল গ্রামে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত ঐতিহ্যবাহী ধলের মেলা।
কালনী নদীর তীরঘেঁষা এই মেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি ভাটির জনপদের মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক অনন্য উৎসব।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তাঁর গানে ধলের মেলাকে অমর করে রেখেছেন
ফাল্গুনে এসেছে ধলের মেলা যাবি যদি আয় দলে দলে, উঠেছে বেলা শাহ আব্দুল করিমের গানের সুরের মতোই প্রতি বছর ফাল্গুনে হাজারো মানুষ দলে দলে ছুটে আসেন এই মেলায়।
উৎসবের আমেজে কালনী পাড় স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলাকে ঘিরে গতকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা মেলা মাঠে এসে দোকানপাট সাজিয়েছেন।
আজ মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।
মেলায় গ্রামীণ পণ্যের পাশাপাশি বিনোদনেরও রয়েছে নানা আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এবারও যাত্রাপালা, বাউল গান, সার্কাসসহ নানা লোকজ অনুষ্ঠান মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
বেল-কুইয়ার স্বাদে মেলার বিশেষত্ব ধলের মেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণ হচ্ছে বেল ও কুইয়ার (ইক্ষু)। পাশাপাশি দই-মুড়ি, রসগোল্লাসহ নানা মুখরোচক খাবারের দোকানেও জমে ওঠে ভিড়।
এ মেলা নিয়ে শাহ আব্দুল করিম ‘ধলের মেলা’ নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন, যা এই উৎসবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে ধারণ করে ধলের মেলা আজও টিকে আছে মানুষের ভালোবাসা আর সংস্কৃতির টানে। কালনী নদীর তীরে এই উৎসব যেন ভাটির জনপদের প্রাণের উৎসব হয়ে উঠেছে।

দিরাই প্রতিনিধি 

















