, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​হাওর রক্ষায় স্বচ্ছতা চাই: সুনামগঞ্জে জোরালো প্রতিবাদ

​সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ধীরগতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহরের আলফাত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে পাউবো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করছে। পাউবোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইতোমধ্যে ৬০% কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি—মাঠে কাজের অগ্রগতি ৩০% এর বেশি নয়। বক্তারা বলেন, “এই পার্সেন্টেজ অফিসে বসে করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই। এটি মূলত বরাদ্দ লুটে নেওয়ার একটি কৌশল।”

বক্তারা আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, হাওরের অনেক বাঁধ আগে থেকেই অক্ষত ও মজবুত ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে সেই অক্ষত বাঁধগুলোতে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক জায়গায় কাজ শুরু করতেই বিলম্ব করা হচ্ছে, যা আসন্ন বোরো ফসলের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল’র সভাপতিত্বে এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে এবং দুর্নীতির লাগাম না টানলে আমরা জেলার ১২টি উপজেলার কৃষকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

​অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুখেন্দু সেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত রঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনুর আহমেদ এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হয়, তবে জেলার ১২টি উপজেলার কমিটি একযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেবে। কৃষকের ঘাম ও শ্রমের ফসল নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না বলে বক্তারা ঐক্যমত পোষণ করেন।

জনপ্রিয়

​হাওর রক্ষায় স্বচ্ছতা চাই: সুনামগঞ্জে জোরালো প্রতিবাদ

প্রকাশের সময় : ৪ ঘন্টা আগে

​সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ধীরগতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শহরের আলফাত স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে পাউবো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করছে। পাউবোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইতোমধ্যে ৬০% কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবি—মাঠে কাজের অগ্রগতি ৩০% এর বেশি নয়। বক্তারা বলেন, “এই পার্সেন্টেজ অফিসে বসে করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই। এটি মূলত বরাদ্দ লুটে নেওয়ার একটি কৌশল।”

বক্তারা আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, হাওরের অনেক বাঁধ আগে থেকেই অক্ষত ও মজবুত ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে সেই অক্ষত বাঁধগুলোতে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক জায়গায় কাজ শুরু করতেই বিলম্ব করা হচ্ছে, যা আসন্ন বোরো ফসলের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল’র সভাপতিত্বে এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে এবং দুর্নীতির লাগাম না টানলে আমরা জেলার ১২টি উপজেলার কৃষকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

​অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুখেন্দু সেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত রঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনুর আহমেদ এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন না হয়, তবে জেলার ১২টি উপজেলার কমিটি একযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি আশ্রয় নেবে। কৃষকের ঘাম ও শ্রমের ফসল নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না বলে বক্তারা ঐক্যমত পোষণ করেন।