সিলেটে হাওর থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে শফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পোড়ানো ছিল এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি লবণের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যার আলামত নষ্টের চেষ্টা হিসেবে দেখছে পুলিশ।
নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং সমছু মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শফি। তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং তার পেছনে অজ্ঞাত এক যুবক বসা ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও ওই যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে যুবকটিকে পরিবারের কেউ শনাক্ত করতে পারেননি।
পরদিন শফির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বোন আসমা জাহান সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের চারদিন পর জকিগঞ্জের হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, শফিকে সুপরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিহতের ভাগনে মারজান মাহমুদ রুহি হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মোটরসাইকেলে শফির সঙ্গে থাকা যুবককে শনাক্ত করা গেলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সহজ হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















