মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা পয়েন্টে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু লাড্ডু বিক্রেতাকে মারধর ও লাথি মেরে তার লাড্ডু ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রতন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শতাধিক মানুষ। তারা অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিশু সিয়াম মৌলভীবাজার শহরের শ্যামলী রোড এলাকার বাসিন্দা। সে বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে। পারিবারিক অভাবের কারণে বাবার দেনা শোধ করতে কয়েক মাস ধরে চৌমুহনা পয়েন্টের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ফুটপাতে বসে লাড্ডু বিক্রি করে আসছিল সে।
সিয়ামের অভিযোগ, প্রতিদিন তাকে রতন নামের ওই যুবককে ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। টাকা না দিলেই তাকে বসতে না দেওয়া, মারধর ও হুমকি দেওয়া হতো।
সিয়াম জানায়, সোমবার রাতে সে লাড্ডু বিক্রি করছিল। এ সময় রতন এসে চাঁদার টাকা দাবি করে এবং বলে, “এখানে বসতে হলে টাকা দিতে হবে, জায়গাটা আমি কিনেছি।” টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রতন তাকে ও তার ভাইকে মারধর করে এবং লাথি মেরে লাড্ডুগুলো ফেলে দেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়াম বলে, ‘বাবা বাড়িতে গেছেন। বাবার কথামতো ১০ হাজার টাকা ধার শোধ করতে এখানে বসি। আজ মাত্র তিনটা লাড্ডু বিক্রি করতে পেরেছি। তিনি এসে টাকা চাইলে বলি, আজ না নিলে হয় না? তখন লাথি দিয়ে সব লাড্ডু ফেলে দেন।’
প্রত্যক্ষদর্শী শাহিন আহমদ চৌধুরী জানান, রতন মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় এসে শিশুটির কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি প্রতিবাদ করলে রতন উত্তেজিত হয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং শিশুটিকে লাথি মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রতন দীর্ঘদিন ধরে চৌমুহনা ও শমসেরনগর সড়ক এলাকায় ফুটপাতে বসা ভাসমান দোকান, ফলমূল ও সবজি বিক্রেতা এবং চলন্ত ভ্যান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। অদৃশ্য শক্তির ভয়ে কেউ এতদিন মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক সমাজ জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 















