ঈদের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপে সরগরম সিলেট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের পালাবদলের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। প্রশ্ন একটাই কে হচ্ছেন পরবর্তী নগরপিতা?
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের পর দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য অবস্থায় চলছে সিসিক। ফলে নাগরিক সেবায় ধীরগতি, জন্মনিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর। এ বাস্তবতায় দ্রুত নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
সিলেটকে ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলটির সাফল্য সিটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছেন একাধিক নেতা। আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ম সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক, ওয়ার্ডভিত্তিক সভা এবং সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছেন।
জামায়াতের প্রস্তুতি
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-ও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। দলটির শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো ও তৃণমূলভিত্তিক প্রভাবকে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
সর্বশেষ সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২১ জুন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের আলোচনা সামনে এসেছে।
সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন দাঁড়িয়েছে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি এবং ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের ৩৬টি ওয়ার্ডে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের ৬টি ওয়ার্ডে ৩৯ হাজার ৬১৬ জন ভোটার রয়েছেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সিসিক আবারও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হোক। এখন দেখার বিষয়, দলীয় প্রতীক কার হাতে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে নগরপিতার মুকুট।
উল্লেখ্য, সীমানা সম্প্রসারণের পর সিসিকের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এই সিটির মোট জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিসিকের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনের আওতায় থাকা ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭২ জন এবং সিলেট-৩ আসনের আওতায় থাকা ৬টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬১৬ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















