সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে কোরআন প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ দাবি করেছে, কোর্সটি বন্ধ করা হয়নি; বরং কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা কোরআন প্রশিক্ষণ কোর্স বন্ধ করেননি। গত বছর জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রমজান মাসে ছাত্রাবাস মসজিদে কোনো উদ্যোগ না থাকায় তারা নিজ উদ্যোগে কোর্স পরিচালনা করেন। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর তালামীযের কয়েকজন প্রতিনিধি হোস্টেল সুপারের সঙ্গে দেখা করে একই কোর্স পরিচালনার অনুমতি চান। সে সময় সুপার নাকি তাদের জানান, আগের বছর শিবির অনুমতি নিয়ে কোর্স পরিচালনা করেছে; তারা না করলে অন্যরা করতে পারে।
তবে শিবিরের দাবি, তালামীযের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয় যে শিবির আর কোর্স পরিচালনা করবে না—যা তারা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে কোরআন সংগ্রহ, তাজবিদের কিতাব ক্রয় এবং শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তালামীযের প্রতিনিধিরা আরও কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অনুমতি পাননি। পরে তারা অন্য একটি সংগঠনের সহযোগিতায় কলেজ প্রশাসনের কাছে গেলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়—কোনো সংগঠনের ব্যানারে নয়, বরং কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগেই কোরআন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হবে।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে শিবির মেনে নিয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক প্রচারণা দুঃখজনক। তারা অভিযোগ করেন, ‘শিবির কোর্স বন্ধ করেছে’ এমন বক্তব্য ভিত্তিহীন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য জেনে তা প্রচার করেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

















