, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৩ সিটি দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আপস করে মুক্তি চান না ইমরান খান এমসি কলেজে দারুল কিরাত স্থগিত, প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু কোরআন প্রশিক্ষণ মন্ত্রীত্বের গৌরব নয়, মায়ের দোয়াই বড়: প্রথম রোজায় হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত জানুয়ারিতে সিলেট বিভাগে ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ জন বৈরিতা নয়, ঐক্যই শক্তি: সিলেটে এসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অঙ্গীকার সিলেটে আবারও ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল ছাতক এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে কোরআন প্রশিক্ষণ কোর্স ঘিরে বিতর্ক: শিবিরকে নিয়ে তালামীযের মিথ্যাচার শাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি তুহিন, সেক্রেটারি মুজাহিদ নাজেহাল সিলেটবাসী: সিন্ডিকেটের দাপটে রমজানের বাজার অস্থির

নাজেহাল সিলেটবাসী: সিন্ডিকেটের দাপটে রমজানের বাজার অস্থির

রমজানকে সামনে রেখে সিলেটের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে সিন্ডিকেট তৎপরতার অভিযোগকে সামনে এনেছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংস প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে কয়েক দফায়। ফলে ইফতার ও সেহেরির বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার গৃহকর্মী সেবুল বেগম বলেন, ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই তার আয়ের বড় অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। “এতো টাকা নিয়ে বাজার করা সম্ভব না,”ক্ষেপে বলেন তিনি। একই চিত্র নগরীর বিভিন্ন বাজারে; অনেক পরিবার এখনো পুরো রমজানের বাজার শেষ করতে পারেনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই একটি প্রভাবশালী চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়। অবৈধ মজুত, পাইকারি পর্যায়ে দামের অস্বচ্ছ নির্ধারণ এবং সরবরাহে কৌশলী নিয়ন্ত্রণ—এসবের কারণেই খুচরা বাজারে আগুন লেগেছে বলে দাবি তাদের। বাজারে তদারকি থাকলেও তার দৃশ্যমান প্রভাব নেই বলেও অভিযোগ ওঠে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, পাইকারি বাজারেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সীমিত লাভে বিক্রি করেও ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—পাইকারি পর্যায়ে দামের লাগাম কে টানবে?

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, একবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। সরবরাহ বাড়ানো, আমদানি সহজ করা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মজুতদারি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে বাজারে স্বস্তির কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। রমজানের আগে দৃশ্যমান অভিযান ও সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

৩ সিটি দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

নাজেহাল সিলেটবাসী: সিন্ডিকেটের দাপটে রমজানের বাজার অস্থির

প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে

রমজানকে সামনে রেখে সিলেটের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে সিন্ডিকেট তৎপরতার অভিযোগকে সামনে এনেছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংস প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে কয়েক দফায়। ফলে ইফতার ও সেহেরির বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার গৃহকর্মী সেবুল বেগম বলেন, ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই তার আয়ের বড় অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। “এতো টাকা নিয়ে বাজার করা সম্ভব না,”ক্ষেপে বলেন তিনি। একই চিত্র নগরীর বিভিন্ন বাজারে; অনেক পরিবার এখনো পুরো রমজানের বাজার শেষ করতে পারেনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই একটি প্রভাবশালী চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ায়। অবৈধ মজুত, পাইকারি পর্যায়ে দামের অস্বচ্ছ নির্ধারণ এবং সরবরাহে কৌশলী নিয়ন্ত্রণ—এসবের কারণেই খুচরা বাজারে আগুন লেগেছে বলে দাবি তাদের। বাজারে তদারকি থাকলেও তার দৃশ্যমান প্রভাব নেই বলেও অভিযোগ ওঠে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, পাইকারি বাজারেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সীমিত লাভে বিক্রি করেও ক্রেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—পাইকারি পর্যায়ে দামের লাগাম কে টানবে?

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, একবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। সরবরাহ বাড়ানো, আমদানি সহজ করা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মজুতদারি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে বাজারে স্বস্তির কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। রমজানের আগে দৃশ্যমান অভিযান ও সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন সচেতন মহল।