আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট বিভাগে ভোটের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন জেন-জি ভোটার। বয়সে তরুণ হলেও সংখ্যায় বিশাল এই প্রজন্মই এবার সিলেটের ১৯টি সংসদীয় আসনে জয়-পরাজ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় এবারের নির্বাচনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ তরুণ ভোটার। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত এই প্রজন্ম আর আগের মতো নিরব নয়—তারা প্রশ্ন করে, বিশ্লেষণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসির হিসাব বলছে, সিলেট বিভাগে মোট ভোটার সংখ্যা এখন ৯১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৩ লাখ বেশি। এই বাড়তি ভোটারের বড় অংশই প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া জেন-জি তরুণ।
বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি ভোটাররা দলীয় আবেগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে। ফলে তাদের মন জোগাতে প্রার্থীদের প্রচলিত স্লোগানের বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা ও বার্তা দিতে হচ্ছে।
সিলেট জেলার ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৩১ লাখেরও বেশি। এখানে প্রায় চার লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি আসনেই ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। একইভাবে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলাতেও তরুণ ভোটার বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে জেন-জি ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটার এবং প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের পোস্টাল ভোটও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইসির তথ্যমতে, সিলেট বিভাগ থেকে এক লাখ তিন হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি চাকরিজীবী পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের তথ্য সহকারী ডলি রানী সূত্রধর মনে করেন, এবারের নির্বাচনে তরুণদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে। তিনি বলেন, “জেন-জি ভোটাররা সচেতন, প্রযুক্তিনির্ভর এবং প্রশ্নপ্রবণ। নারী ও প্রবাসী ভোটারদের সঙ্গে মিলেই তারা নির্বাচনের গেমচেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।”
সব মিলিয়ে, সিলেটের এবারের নির্বাচন শুধু দল আর প্রার্থীর লড়াই নয়—এটি জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ারও বড় একটি সুযোগ। আর সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দেবে কে যাচ্ছে সংসদে, আর কে থেকে যাচ্ছে বাইরে।

জুনেদ আহমদ 


















