সিলেট-১ আসনে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে প্রতিবাদী অনশনে বসেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন সুমন।
রোববার সকালে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন কাস্তে প্রতীকের এই প্রার্থী।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সুমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হলে তিনি আমরণ অনশনে যাবেন।
বর্তমান নির্বাচনি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করে সিপিবি প্রার্থী বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দেখিয়ে তার নির্বাচনি প্রচারণার বৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও একই ধরনের কিংবা আরও গুরুতর অনিয়ম অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সিলেট মহানগরের অন্তত দুইজন প্রার্থী প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনশ করে বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। অথচ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আনোয়ার হোসেন সুমন আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন লাগানো, নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পোস্টার লাগানোর মতো অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনি আচরণবিধি যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে কোনোভাবেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, আর অন্যদের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে—এটি সরাসরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পরিপন্থী।”
সিপিবি প্রার্থী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এই প্রতিবাদী অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সবার জন্য সমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















