স্পোর্টস ফটো সাংবাদিকরা খেলাধুলার চরম উত্তেজনা, অ্যাথলেটদের আবেগ, তীব্র লড়াই এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধারণ করেন। তারা মূলত সংবাদপত্র, বার্তা সংস্থা বা ম্যাগাজিনের হয়ে কাজ করেন, যেখানে মাঠের অ্যাকশন শট, দর্শকদের উন্মাদনা ও নেপথ্যের দৃশ্যগুলো উঠে আসে। এটি ফটোগ্রাফির একটি জটিল ধারা, যা দ্রুতগতির অ্যাকশনকে স্থির চিত্রে রূপান্তর করে খেলার ইতিহাস সংরক্ষণ করে। স্পোর্টস ফটো সাংবাদিকতা এনালগ যুগের ধীরগতির সাদাকালো ছবি থেকে দ্রুতগতির ডিজিটাল ও উচ্চমানের রঙিন যুগে রূপান্তরিত হয়েছে। অতীতে ফিল্ম রোল নির্ভরতা এবং ডার্করুমের কাজের চ্যালেঞ্জ ছিল, যা বর্তমানে এআই (AI), হাই-স্পিড ক্যামেরা এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ট্রান্সমিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে মুহূর্তেই খবর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা খেলার পেছনের মানবিক গল্পগুলো তুলে ধরে। স্পোর্টস ফটো সাংবাদিকতা আজ আর শুধুমাত্র খেলার দৃশ্য ধারণ নয়, বরং এটি একটি মুহূর্তের নিখুঁত গল্প বলার শিল্পে পরিণত হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে আরও দ্রুত এবং প্রাণবন্ত।
ক্রীড়া নৈপুণ্যের এ দৃশ্যকে অনন্য আলোর ক্যানভাসে বন্দি করে ক্রীড়ামোদীদের কাছে পৌঁছে দেন এসব ক্রীড়া
ফটোগ্রাফাররা। শানুর রুমেন তেমন একজন ফটোগ্রাফার, যিনি ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করেন ক্রীড়ার সেই অপার সৌন্দর্যের মুহুর্তগুলি।অনুভূতির গভীর প্রকাশ কিংবা ক্রীড়া সৌন্দর্য ফটোগ্রাফি যেন সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের এক শিল্প হিসেবে দেখাতে চান রুমেন।
সিলেটের বিশ্বনাথে বেড়ে ওঠা রুমনের ছোটবেলা থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি টান ছিল।সেই ক্যামেরাই আমার ফটোগ্রাফি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ফটোগ্রাফির শুরুতে রুমেন প্রকৃতি, ভ্রমণ, পোর্ট্রেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছবি তুললেও এখন তিনি ডকুমেন্টারি এবং ক্রীড়া ফটোসাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেছেন। তার তোলা ছবি দেশ ও বিদেশের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত হয়েছে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ব্রাজিলে অবস্থান করলেও ফটো সাংবাদিকতা থেকে তিনি বিচ্যুত হননি বরং সেখানকার ক্রীড়া জগতে এখন পুরোদমে প্রবেশ করেছেন। সেখানকার নামীদামী সব ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের সাথে গড়ে তুলেছেন সখ্যতা, তাদের ছবিসহ বিভিন্ন ম্যাচের ছবি আপন মনে তুলে যাচ্ছেন। যা তাকে আজ এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। এ ব্যাপারে আলাপকালে শানুর রুমেন বলেন, সব লড়াই চোখে দেখা যায় না। কিছু লড়াই নীরব একান্ত নিজের। জীবনের সেই কঠিন সময়গুলোতে ক্যামেরাটা আমার শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্যামেরা শিখিয়েছে—মাঠে যেমন লড়াই হয়। জীবনেও তেমন লড়াই করেই টিকে থাকতে হয়। একজন স্পোর্টস ফটোগ্রাফার হিসেবে গল্প খুঁজি। প্রমাণ করি—আমি এখনো লড়ছি। খেলার মাঠ থেকে গল্প তুলে আনার চেষ্টা করি। কখনো লেখায়,কখনো ছবিতে। এই ক্যামেরাটা শুধু যন্ত্র না এটা মাঠের চিৎকার শোনে। জয়ের উল্লাস দেখে, হারার নীরবতাও বোঝে। স্পোর্টস ফটো সাংবাদিকতার গল্পগুলো কখনো কলমে কখনো লেন্সে বেঁচে থাকে। খেলার মাঠে দাঁড়িয়ে যত গল্প দেখি সব লিখে ফেলা যায় না—কিছু গল্প ছবি হয়ে থেকে যায়। আমি শুধু সেগুলো ধরার চেষ্টা করি। রুমেন মনে করেন, ফটোগ্রাফির সফলতা অর্জনে প্রচুর অনুশীলন জরুরি। প্রবীণদের কাজ দেখা এবং নিয়মিত নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে,আর্থিক সীমাবদ্ধতা ফটোগ্রাফির পথে বাধা নয়। বরং ভবিষ্যতে তিনি তার কাজের মাধ্যমে শুধু নিজেকে নয়,বরং বাংলাদেশের ক্রীড়া ফটোগ্রাফি শিল্পকেও সমৃদ্ধ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















