সিলেট নগরীতে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্যত্র পাঠানো হয় এবং পরে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এ ঘটনার পর স্বজনদের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের মধুশহীদ এলাকার শাহজালাল ক্লিনিক–এ এ ঘটনা ঘটে।
শিশুটির পরিবার জানায়, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ওই শিশুর প্রায় ৯ মাস আগে ভাঙা পায়ে পাত বসানো হয়েছিল। সেটি খুলতে ক্লিনিকে নেওয়া হলে তাকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়। কিছু সময় পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত অন্য একটি ক্লিনিকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে সেখানে নেওয়ার পর জানানো হয়—শিশুটি আর বেঁচে নেই।
পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিকে ফিরে এলে একজন ম্যানেজার পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তাদের হাতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করেন এবং বিক্ষোভ দেখান। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির মা গণমাধ্যমকে বলেন, “একটি ইনজেকশন কয়েকবার দেওয়ার পর পাত খুলতে গেলে আমার সন্তান চিৎকার করে আমার কোলে ঢলে পড়ে। পরে বলে আইসিইউতে নিতে। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে জানায়, সে আর নেই।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানা–র ওসি মাঈনুল জাকির জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্বজনদের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশের একটি টিম ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
ঘটনাটি নগরজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগের রাতেও নগরের ইবনে সিনা হাসপাতাল–এ ভুল চিকিৎসায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। একের পর এক অভিযোগে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















