, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আজ সোমবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ কোছাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন শাকিল ইসলাম কুড়িগ্রামে স্ত্রী হত্যা করে সিলেটে আত্মগোপন: র‍্যাবের হাতে স্বামী গ্রেফতার সিলেটে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে লন্ডনপ্রবাসী শফিকে পরিকল্পিত হত্যা: ৩ জন গ্রেফতার রমজানে এলপি গ্যাসে আগুন, সিলেটে ১৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ছুঁইছুঁই সিলেটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের স্মার্টফোন চুরি, থানায় জিডি দক্ষিণ সুরমায় সীতারামী খাল পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মালিক  সিলেটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযোগ করুন: কল সেন্টার চালু, নগরে সতর্কবার্তা স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে মহান শহীদ দিবস উদযাপন মৌলভীবাজারে অটোরিকশা-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

রমজানে এলপি গ্যাসে আগুন, সিলেটে ১৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ছুঁইছুঁই

সিলেটে টানা দুই মাসেও স্বাভাবিক হয়নি এলপি গ্যাসের বাজার। পবিত্র রমজান মাস  হলেও কাটেনি সঙ্কট। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে, বাড়ছে উদ্বেগ।

খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। অনেক এলাকায় ৩৫ কেজির সিলিন্ডার মিলছেই না। নগরীর ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমজান শুরুর আগে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও আমদানি বাড়েনি; বরং কমেছে। এক মাসে প্রায় ২১ হাজার টন কম এলপিজি আমদানি হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার টন। জানুয়ারিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে এসেছে মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার টন।

আমদানিকারকেরা বলছেন, মার্চের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের দাবি, এলসি জটিলতার কারণে অনেক কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না। এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আমদানির অনুমোদন আছে ২৩টির। বর্তমানে মাত্র পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আনতে পারছে।

ডিলারদের ভাষ্য, ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দামে। পরিবহন কমিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খরচ আরও বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম ১ হাজার ৭০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করেন, সীমিত লাভে বিক্রি করলেও কিছু খুচরা বিক্রেতা ‘হোম ডেলিভারি’র নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি কম থাকায় সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিয়মিত অভিযান না থাকলে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন। তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানিয়েছে, বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বছরে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে; প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় পাঁচ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা, যা গত মাসে কমিয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই দামে মিলছে না গ্যাস।

নতুন সরকারের কাছে ভোক্তাদের প্রত্যাশা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করে এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রান্নার প্রধান জ্বালানি হয়ে ওঠা এলপিজির এই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

জনপ্রিয়

আজ সোমবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ

রমজানে এলপি গ্যাসে আগুন, সিলেটে ১৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ছুঁইছুঁই

প্রকাশের সময় : ১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেটে টানা দুই মাসেও স্বাভাবিক হয়নি এলপি গ্যাসের বাজার। পবিত্র রমজান মাস  হলেও কাটেনি সঙ্কট। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে, বাড়ছে উদ্বেগ।

খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫৬ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। অনেক এলাকায় ৩৫ কেজির সিলিন্ডার মিলছেই না। নগরীর ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমজান শুরুর আগে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও আমদানি বাড়েনি; বরং কমেছে। এক মাসে প্রায় ২১ হাজার টন কম এলপিজি আমদানি হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার টন। জানুয়ারিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে এসেছে মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার টন।

আমদানিকারকেরা বলছেন, মার্চের আগে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের দাবি, এলসি জটিলতার কারণে অনেক কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না। এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আমদানির অনুমোদন আছে ২৩টির। বর্তমানে মাত্র পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আনতে পারছে।

ডিলারদের ভাষ্য, ১২ কেজির সিলিন্ডার পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি দামে। পরিবহন কমিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খরচ আরও বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম ১ হাজার ৭০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করেন, সীমিত লাভে বিক্রি করলেও কিছু খুচরা বিক্রেতা ‘হোম ডেলিভারি’র নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি কম থাকায় সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিয়মিত অভিযান না থাকলে নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন। তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানিয়েছে, বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বছরে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে; প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় পাঁচ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা, যা গত মাসে কমিয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই দামে মিলছে না গ্যাস।

নতুন সরকারের কাছে ভোক্তাদের প্রত্যাশা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করে এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রান্নার প্রধান জ্বালানি হয়ে ওঠা এলপিজির এই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।