সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মনোনীত প্রার্থী এহতেশাম হক।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) এহতেশাম হক বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তুলনায় অসম ও অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। যে কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, একই ধরনের কারণ থাকা সত্ত্বেও সিলেট-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ।
তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তার ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
এনসিপি নেতা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, তাহলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকারের প্রশ্নে তারা রাজপথে ও সাংবিধানিক সব পথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক এডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল, সিলেট জেলার আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ, মহানগরের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া, সিলেট জেলার সদস্য সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিয়া আক্তার লুবনাসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
তবে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেক হোম অফিসের একটি সার্টিফিকেট আমাদের কাছে জমা দিয়েছেন। রোববার হোম অফিস বন্ধ ছিল এবং সেটিই যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন হওয়ায় আমরা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করি। তবে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে আমরা হাইকমিশনে চিঠি পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি প্রার্থী এহতেশাম হক কোনো সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি। আমরা কোথাও কোনোভাবেই বৈষম্য করিনি।’
এই মনোনয়ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে সিলেটের নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















