সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণের তথ্য উঠে এসেছে নির্বাচনী হলফনামায়। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঋণ পুনঃতফসিল (রিশিডিউল) করা হয়েছে। এতে ঋণ খেলাপি হিসেবে অযোগ্যতা এড়িয়ে মনোনয়ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হলফনামা অনুযায়ী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজ নামে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান লিমিটেড থেকে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ঋণটি ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পুনঃতফসিল করা হয়। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া বড় অঙ্কের ঋণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে নিয়েছেন ৬২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা পুনঃতফসিল করা হয় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড থেকে নেওয়া ৯৮ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে নেওয়া ১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। একইভাবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে নেওয়া ৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর। পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান লিমিটেড থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে নেওয়া ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগে খেলাপি ঋণ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা এবং অভ্যাসগত ঋণ খেলাপিদের প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার। তবে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।
এ কারণে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে মনোনয়ন দাখিলের সুযোগ থাকছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিনের সিলেট ডেস্ক 
















