, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে সিলেটে বাল্যবিবাহ রুখে দিল উপজেলা প্রশাসন, মুচলেকায় বন্ধ হলো বিয়ে খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য বজায় রেখে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করছেন তারেক রহমান সুনামগঞ্জে হাওরে তাণ্ডব: হাঁসের খামারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট, মালিকসহ তিনজন রক্তাক্ত মৌলভীবাজারে ডাকাতি করে পালানোর সময় অস্ত্র ও লুন্ঠিত মালামালসহ আটক ৪ বাংলাদেশসহ চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করল অস্ট্রেলিয়া সিলেটের বেলুন ভারতে, আসামে আতঙ্কে পুলিশ সিলেটে যাত্রীবেশে ভয়ংকর ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার সিএনজি দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন

খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান পেশা কৃষি। গবেষণায় দেখা গেছে, এ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা কৃষিকাজেই বেশি মনোযোগী। এখানকার জমিতে বছরজুড়ে ধান, গম, পাট, সরিষা, মসুর, ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ সংকট ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণে জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসির অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট-এর ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮টি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আজমতপুর এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী। চলতি বছরেই লালাবাজার, দাউদপুরসহ অন্যান্য এলাকার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খননের ফলে দীর্ঘদিন নাব্যতা হারানো মৃত খালগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে খালের দুই পাড়ের কয়েকশ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিকাজে সহজলভ্য পানি নিশ্চিত হওয়ায় উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক পরিবারসহ লক্ষাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। এখন তারা অধিক ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বচ্ছ পানির প্রবাহে খালগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর পানির ছলছল শব্দে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করছে। বিশেষ করে খালের পাড়বর্তী এলাকার মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

খালের পানি সহজেই হাতের কাছে পাওয়ায় কৃষিকাজের পাশাপাশি পরিবারের নারীদের দৈনন্দিন কাজেও স্বস্তি ফিরেছে।

জালালপুর এলাকার কৃষক রবীন্দ্রনাথ বলেন, “পানির অভাবে আমরা ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। খাল শুকনো থাকায় দূর থেকে সেচ পাম্পে পানি এনে বছরে এক ফসল চাষ করতাম, খরচও হতো বেশি। এখন খাল খননের ফলে পানি প্রবাহ বেড়েছে। খালের পানি ব্যবহার করে রবি শস্য ও ইরি-বোরো চাষ করতে পারব। আশা করছি আমাদের ভাগ্য বদলাবে।”

একই এলাকার কৃষক নজব আলী বলেন, “এক সময় পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিত। এখন খাল খননের ফলে কৃষিসহ সব কাজে সুবিধা হয়েছে।”

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল জানান, ইতোমধ্যে জালালপুর ইউনিয়নে ভবখালী-১ ও ভবখালী-২ প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দাউদপুর ইউনিয়নেও খাল খননের কাজ শুরু হবে। এসব খাল খননের ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী বলেন, খাল খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। দক্ষিণ সুরমায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

জনপ্রিয়

সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতার বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

খাল খননে প্রাণ ফিরেছে দক্ষিণ সুরমার কৃষিতে, সেচ সুবিধায় হাসি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মুখে

প্রকাশের সময় : ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মানুষের অন্যতম প্রধান পেশা কৃষি। গবেষণায় দেখা গেছে, এ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা কৃষিকাজেই বেশি মনোযোগী। এখানকার জমিতে বছরজুড়ে ধান, গম, পাট, সরিষা, মসুর, ভুট্টাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ সংকট ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণে জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুকনো মৌসুমে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসির অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট-এর ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮টি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আজমতপুর এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী। চলতি বছরেই লালাবাজার, দাউদপুরসহ অন্যান্য এলাকার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খননের ফলে দীর্ঘদিন নাব্যতা হারানো মৃত খালগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে খালের দুই পাড়ের কয়েকশ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিকাজে সহজলভ্য পানি নিশ্চিত হওয়ায় উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক পরিবারসহ লক্ষাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। এখন তারা অধিক ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বচ্ছ পানির প্রবাহে খালগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর পানির ছলছল শব্দে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করছে। বিশেষ করে খালের পাড়বর্তী এলাকার মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

খালের পানি সহজেই হাতের কাছে পাওয়ায় কৃষিকাজের পাশাপাশি পরিবারের নারীদের দৈনন্দিন কাজেও স্বস্তি ফিরেছে।

জালালপুর এলাকার কৃষক রবীন্দ্রনাথ বলেন, “পানির অভাবে আমরা ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। খাল শুকনো থাকায় দূর থেকে সেচ পাম্পে পানি এনে বছরে এক ফসল চাষ করতাম, খরচও হতো বেশি। এখন খাল খননের ফলে পানি প্রবাহ বেড়েছে। খালের পানি ব্যবহার করে রবি শস্য ও ইরি-বোরো চাষ করতে পারব। আশা করছি আমাদের ভাগ্য বদলাবে।”

একই এলাকার কৃষক নজব আলী বলেন, “এক সময় পাঁচটি গ্রামের মানুষ এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিত। এখন খাল খননের ফলে কৃষিসহ সব কাজে সুবিধা হয়েছে।”

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল জানান, ইতোমধ্যে জালালপুর ইউনিয়নে ভবখালী-১ ও ভবখালী-২ প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দাউদপুর ইউনিয়নেও খাল খননের কাজ শুরু হবে। এসব খাল খননের ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনিক চৌধুরী বলেন, খাল খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। দক্ষিণ সুরমায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।