বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সিলেট পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে পূর্ণাঙ্গ পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি দিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সর্বস্তরের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে স্টেডিয়ামে পুলিশি শক্তি সীমিত করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আগের মতো পুলিশ মোতায়েন সম্ভব নয়। এতে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিসিবিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির একটি অনুলিপি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠুকেও পাঠানো হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদস্যের সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপত্তা সমন্বয় করা হবে। মূল ভেন্যু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পূর্বের মতোই পুলিশ থাকবে। নতুন কর্মপরিকল্পনা কাল সকালের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্র জানায়, সিলেটে বিপিএলের শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ২ জানুয়ারি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দুদিন খেলা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম পর্ব বাতিল করে সিলেটে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার। ফলে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালিত হচ্ছে।
বিসিবির পরিচালক রাহাত শামস জানান, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো হয়নি, শুধু ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে শিফটিং হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
উল্লেখ্য, আগে প্রায় ৬৭০ জন পুলিশ ও ৬৫ জন আনসার দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবও যথাযথভাবে মোতায়েন ছিল। এখন কিছু পুলিশ সদস্য কমিয়ে আনসার যুক্ত করার মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান পুলিশের হাতে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


















