সিলেটের ওসমানীনগরে চুরির গরু দিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইফতারে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। গত ৫ রমজান বেলা ৩টার দিকে গলমুকাপন মাদরাসার পূর্বের মাঠ থেকে একটি গরু চুরি হয়। ৬ রমজান গলমুকাপন গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজনের পর বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করার পর ৮ রমজান রাত ১১টার দিকে মধু মিয়ার বাড়িতেই এক বৈঠকের মাধ্যমে গরুর মালিককে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গত ৫ রমজান বেলা ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন মাদরাসার পূর্বের মাঠ থেকে একই গ্রামের নাজমুল ইসলামের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। এরপর পার্শ্ববর্তি মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি নামের যুবক নাজমুলকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধান করতে পাঠায়। সাঈদির তথ্যমতে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নাজমুল গরুর সন্ধান পাননি। ঐদিন রাত ৮টার দিকে বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়িতে কেয়ারটেকার সাঈদি কসাই দিয়ে চুরির গরু জবাইয়ের পর সারারাত গোস্ত রান্না করে পরদিন ৬ রমজান বিকালে এলাকার সহস্রাধিক লোকের ইফতার পরিবেশন করা হয়। ইফতার পার্টিতে দাওয়াতি মেহমান হিসেবে গরুর মালিক নাজমুল উপস্থিত হয়ে জবাইকৃত গরুর দড়ি দেখতে পেয়ে বুঝতে পারেন তার গরু দিয়েই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে বললে মধু মিয়ার বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি তদন্ত করে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিশ্চিৎ হন নাজমুলের গরু দিয়েই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। ৮ রমজান বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গ্রামের মুরব্বীদের মধ্যস্থতায় নাজমুলকে ৭০হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হয় এবং মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
শুক্রবার বাদ জুমআ’ বিষয়টি জানতে চাইলে মধু মিয়ার পক্ষে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউপি যুবদলের সদস্য হুসাইন আহমদ বলেন, মধু মিয়া বাথরুমে গোসল করছেন, তিনি আজ লন্ডনে চলে যাবেন, কোন কথা বলবেন না। বিষয়টি আমরা সমাধান করে দিয়েছি। এ বিষয়ে আপনারা কোন নিউজ করবেন না।
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমার গরু চুরি হওয়ার পর মধু মিয়ার কেয়ারটেকার সাঈদ আমাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধান করতে পাঠায়। আমি তাদের বাড়িতে ইফতারে গিয়ে আমার গরুর দড়ি দেখে চিনে ফেলি। এরপর বিষয়টি লোকজনকে জানালে এক পর্যায়ে সিসিটিভি দেখে নিশ্চিৎ হয়ে সালিশের মাধ্যমে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। গ্রামের আরো গরু চুরি হয়েছে। আজ রাতে একটি সালিশ আছে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি’র মোবাইলে কল করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ’র মোবাইলে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দয়ামীর ইউপি চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি লাইভে দেখেছি। ইফতারে দাওয়াত ছিল সম্ভবত তবে যাইনি। আমি যেহেতু সেখানে ছিলাম না তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়া জানা গেছে, কেয়ারটেকার সাঈদী বৃহস্পতিবার রাত থেকে পলাতক রয়েছেন।
প্রবাসী আহমদ মধু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাজি হননি। ঘটনাটি এখন শুধু গ্রামের মধ্যে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওসমানীনগর প্রতিনিধি 


















