, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পরিবারকে বলেছিলেন ‘রাতে কথা হবে’, তার আগেই নিভে গেল বড়লেখার সালেহর জীবন দিরাইয়ে তিন দিনব্যাপী ফলিত পুষ্টি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত ছয় বছরে সিলেট বিভাগে মায়ের গর্ভেই মারা গেছে ১০ হাজার শিশু সিলেটে শাহজালাল মাজার মসজিদে ১৫তম তারাবিতে অংশ নেবেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সুনামগঞ্জে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান মৌলভীবাজারে পচা খাসির মাংস বিক্রির অপরাধে দোকান সিলগালা ওসমানীনগরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ সিলেটে নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পরিবর্তন, ফিরছে সাইফুর রহমানের নাম সিলেটের জিন্দাবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

পরিবারকে বলেছিলেন ‘রাতে কথা হবে’, তার আগেই নিভে গেল বড়লেখার সালেহর জীবন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন আগুনের রেখা ছুটছিল, তখন হয়তো শেষবারের মতো ভাইদের কথা ভেবেছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার সেই মানুষটি সালেহ আহমদ। কিন্তু সেই কথোপকথন আর হলো না। ভয়েস রেকর্ডে বলা “রাতে কথা হবে” এই প্রতিশ্রুতিই হয়ে রইল শেষ স্মৃতি।

৩৫ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসজীবন। দুবাইয়ের মাটিতে তিনি পরিচিত ছিলেন আহমদ আলী নামে। অথচ বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে তিনি সবার প্রিয় সালেহ আহমদ। জীবনের বড় একটা সময় পরিবার থেকে দূরে কাটিয়েছেন শুধু স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। গত বছর দেশে এসেছিলেন। চার মাস আগে আবার পাড়ি জমান দুবাইয়ে। কে জানত, সেটাই হবে তার শেষ ফেরা!

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে আজমান শহরে আকস্মিক হামলার ঘটনায় থেমে যায় তার জীবন। অভিযোগ রয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তার পানির ট্যাংকারে আঘাত হানে। ইফতারের পর পানি সরবরাহের কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। রোজার সন্ধ্যার শান্ত আকাশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুনঝরা সেই আঘাত আর সহ্য করতে পারেননি সালেহ।

ওই শহরেই থাকেন তার দুই ছোট ভাই—জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ। মৃত্যুর খবর তারাই প্রথম পরিবারকে জানান। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সালেহ আহমদ ভাইদের কাছে একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠান। সেখানে বলেন, রাত ১০টার দিকে কথা বলবেন। কিন্তু ১০টা বাজার আগেই আসে মৃত্যুসংবাদ।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই দুবাইয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কফিলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি আর নেই। তার মরদেহ এখনো হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে দেশে। তাদের জন্যই ছিল এই দীর্ঘ প্রবাসজীবন। এখন সেই ঘরেই নেমেছে শোকের ছায়া। শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর আর কোনো ফোনকল নয় শুধু নিথর সংবাদ।

এদিকে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছেন, পুলিশ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

একটি ভয়েস রেকর্ড, একটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি আর অগণিত স্বপ্ন সবকিছু রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সালেহ আহমদ। বড়লেখার ছোট্ট গ্রামে এখন শুধু কান্নার শব্দ, আর প্রশ্ন—রাত ১০টার সেই কথায় কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি?

জনপ্রিয়

পরিবারকে বলেছিলেন ‘রাতে কথা হবে’, তার আগেই নিভে গেল বড়লেখার সালেহর জীবন

পরিবারকে বলেছিলেন ‘রাতে কথা হবে’, তার আগেই নিভে গেল বড়লেখার সালেহর জীবন

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন আগুনের রেখা ছুটছিল, তখন হয়তো শেষবারের মতো ভাইদের কথা ভেবেছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার সেই মানুষটি সালেহ আহমদ। কিন্তু সেই কথোপকথন আর হলো না। ভয়েস রেকর্ডে বলা “রাতে কথা হবে” এই প্রতিশ্রুতিই হয়ে রইল শেষ স্মৃতি।

৩৫ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসজীবন। দুবাইয়ের মাটিতে তিনি পরিচিত ছিলেন আহমদ আলী নামে। অথচ বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে তিনি সবার প্রিয় সালেহ আহমদ। জীবনের বড় একটা সময় পরিবার থেকে দূরে কাটিয়েছেন শুধু স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। গত বছর দেশে এসেছিলেন। চার মাস আগে আবার পাড়ি জমান দুবাইয়ে। কে জানত, সেটাই হবে তার শেষ ফেরা!

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে আজমান শহরে আকস্মিক হামলার ঘটনায় থেমে যায় তার জীবন। অভিযোগ রয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তার পানির ট্যাংকারে আঘাত হানে। ইফতারের পর পানি সরবরাহের কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। রোজার সন্ধ্যার শান্ত আকাশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুনঝরা সেই আঘাত আর সহ্য করতে পারেননি সালেহ।

ওই শহরেই থাকেন তার দুই ছোট ভাই—জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ। মৃত্যুর খবর তারাই প্রথম পরিবারকে জানান। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই সালেহ আহমদ ভাইদের কাছে একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠান। সেখানে বলেন, রাত ১০টার দিকে কথা বলবেন। কিন্তু ১০টা বাজার আগেই আসে মৃত্যুসংবাদ।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই দুবাইয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কফিলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি আর নেই। তার মরদেহ এখনো হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে দেশে। তাদের জন্যই ছিল এই দীর্ঘ প্রবাসজীবন। এখন সেই ঘরেই নেমেছে শোকের ছায়া। শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর আর কোনো ফোনকল নয় শুধু নিথর সংবাদ।

এদিকে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছেন, পুলিশ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

একটি ভয়েস রেকর্ড, একটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি আর অগণিত স্বপ্ন সবকিছু রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সালেহ আহমদ। বড়লেখার ছোট্ট গ্রামে এখন শুধু কান্নার শব্দ, আর প্রশ্ন—রাত ১০টার সেই কথায় কী বলতে চেয়েছিলেন তিনি?