, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান মৌলভীবাজারে পচা খাসির মাংস বিক্রির অপরাধে দোকান সিলগালা ওসমানীনগরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ সিলেটে নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পরিবর্তন, ফিরছে সাইফুর রহমানের নাম সিলেটের জিন্দাবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা

বালুখেকোদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে সিলেটের জলারবন রাতারগুল, প্রতিবাদ করলে চলে নির্যাতন

সিলেটের পর্যটন এলাকার লুট হওয়া সাদা পাথর নিয়ে যখন এত হৈ-চৈ, তখন বিভিন্ন স্থানে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে অনেকের ঘরবাড়ি ও সংরক্ষিত এলাকা। আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিলেটের বালু মহালগুলোতে অবৈধ লুটপাটে জড়িতদের ধরতে প্রশাসনিক গাফিলতিকে দুষছেন পরিবেশকর্মীরা।

সিলেটের খনিজ সম্পদ উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা হলেও এখনও বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই জেলার লালাখাল, পিয়ান, ধলাইসহ বেশিরভাগ বালু মহালের একই অবস্থা।

বালু উত্তোলনের একজন শ্রমিক জানান, অনেক কষ্ট হলেও কাজ না করলে তারা চলেত পারবে না। তাদের থেকে চাঁদা তোলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

বালুখেকোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সংরক্ষিত জলারবন রাতারগুলও। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে অনেকেই হারাচ্ছেন ঘরবাড়ি। প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হচ্ছে নির্যাতনের।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন জানান, ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে তাদের জীবন, কেননা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনও বেড়ে চলেছে, ভিটেমাটি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানান তারা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এ অনিয়মে পরিবেশের সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা। দ্রুত এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো জেলা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সিলেট বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, তারা অবৈধ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে, সরকারকে কোনো ট্যাক্স দেয় না। তারা যে টাকা লাভ করে, তার একটা অংশ প্রশাসনের পেছনে খরচ করে।

সিলেট বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা বলেন, আমরা লুটপাটের বিষয়টি সাইডে রাখলেও যে প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখান থেকে যে পরিমাণ টাকা আমরা রেভেনিউ হিসেবে পাচ্ছি, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

তবে বালু মহালের নৈরাজ্য বন্ধে কাজ চলছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না। যেভাবেই হোক এটা আমাদের বন্ধ করতে হবে। আমরা শুনেছি, কিছু কিছু অঞ্চলে এরকম অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান

বালুখেকোদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে সিলেটের জলারবন রাতারগুল, প্রতিবাদ করলে চলে নির্যাতন

প্রকাশের সময় : ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫

সিলেটের পর্যটন এলাকার লুট হওয়া সাদা পাথর নিয়ে যখন এত হৈ-চৈ, তখন বিভিন্ন স্থানে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে অনেকের ঘরবাড়ি ও সংরক্ষিত এলাকা। আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিলেটের বালু মহালগুলোতে অবৈধ লুটপাটে জড়িতদের ধরতে প্রশাসনিক গাফিলতিকে দুষছেন পরিবেশকর্মীরা।

সিলেটের খনিজ সম্পদ উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা হলেও এখনও বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই জেলার লালাখাল, পিয়ান, ধলাইসহ বেশিরভাগ বালু মহালের একই অবস্থা।

বালু উত্তোলনের একজন শ্রমিক জানান, অনেক কষ্ট হলেও কাজ না করলে তারা চলেত পারবে না। তাদের থেকে চাঁদা তোলা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

বালুখেকোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সংরক্ষিত জলারবন রাতারগুলও। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে অনেকেই হারাচ্ছেন ঘরবাড়ি। প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হচ্ছে নির্যাতনের।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন জানান, ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে তাদের জীবন, কেননা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনও বেড়ে চলেছে, ভিটেমাটি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানান তারা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এ অনিয়মে পরিবেশের সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা। দ্রুত এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো জেলা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সিলেট বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, তারা অবৈধ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে, সরকারকে কোনো ট্যাক্স দেয় না। তারা যে টাকা লাভ করে, তার একটা অংশ প্রশাসনের পেছনে খরচ করে।

সিলেট বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা বলেন, আমরা লুটপাটের বিষয়টি সাইডে রাখলেও যে প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখান থেকে যে পরিমাণ টাকা আমরা রেভেনিউ হিসেবে পাচ্ছি, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

তবে বালু মহালের নৈরাজ্য বন্ধে কাজ চলছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না। যেভাবেই হোক এটা আমাদের বন্ধ করতে হবে। আমরা শুনেছি, কিছু কিছু অঞ্চলে এরকম অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।