, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান মৌলভীবাজারে পচা খাসির মাংস বিক্রির অপরাধে দোকান সিলগালা ওসমানীনগরে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ সিলেটে নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পরিবর্তন, ফিরছে সাইফুর রহমানের নাম সিলেটের জিন্দাবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা
রহস্য উদঘাটন

মৌলভীবাজারে ৫০০ টাকা চাওয়ায় গালমন্দ, ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে খুন করলো ছোট ভাই

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকালে নিজ ঘরে গলাকাটা অবস্থায় ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম রাফির (২৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গোপন সূত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই রানাকে (ছদ্মনাম, ১৬) সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দিনই আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে বড় ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যার আগের দিন রাতে রানা তার ভাই রাফির কাছে ৫০০ টাকা চান। টাকা না দিয়ে রাফি ছোট ভাইকে গালাগাল ও দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা পর দিন সকাল ৭টার দিকে মা-বাবা ও অন্যান্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে খাটের নিচ থেকে ধারালো দা বের করে ঘুমন্ত রাফির ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপ দেয়। এরপর দা ধুয়ে আবার খাটের নিচে রাখে এবং রক্তমাখা লুঙ্গিও সেখানে লুকিয়ে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে।

নোবেল চাকমা আরও বলেন, শুধু টাকা না দেওয়া নয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও বড় ভাইয়ের শাসনের প্রতিও ক্ষোভ ছিল রানার। রাফি পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করায় ভাই ও স্ত্রীর মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। যা রানার সঙ্গেও বিরোধ তৈরি করে। এসব ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। পরে রানার ঘরের খাটের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করে পুলিশ।

জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ কাজ, ঝুঁকিতে হাওরের ধান

রহস্য উদঘাটন

মৌলভীবাজারে ৫০০ টাকা চাওয়ায় গালমন্দ, ঘুমন্ত অবস্থায় বড় ভাইকে খুন করলো ছোট ভাই

প্রকাশের সময় : ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে বড় ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকালে নিজ ঘরে গলাকাটা অবস্থায় ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিম রাফির (২৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গোপন সূত্র, তথ্যপ্রযুক্তি ও এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই রানাকে (ছদ্মনাম, ১৬) সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দিনই আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে বড় ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যার আগের দিন রাতে রানা তার ভাই রাফির কাছে ৫০০ টাকা চান। টাকা না দিয়ে রাফি ছোট ভাইকে গালাগাল ও দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা পর দিন সকাল ৭টার দিকে মা-বাবা ও অন্যান্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে খাটের নিচ থেকে ধারালো দা বের করে ঘুমন্ত রাফির ঘাড়ে উপর্যুপরি কোপ দেয়। এরপর দা ধুয়ে আবার খাটের নিচে রাখে এবং রক্তমাখা লুঙ্গিও সেখানে লুকিয়ে স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে।

নোবেল চাকমা আরও বলেন, শুধু টাকা না দেওয়া নয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও বড় ভাইয়ের শাসনের প্রতিও ক্ষোভ ছিল রানার। রাফি পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করায় ভাই ও স্ত্রীর মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। যা রানার সঙ্গেও বিরোধ তৈরি করে। এসব ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। পরে রানার ঘরের খাটের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করে পুলিশ।