, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা মিসাইল আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা, সিলেটে পরিবারে উৎকণ্ঠা হবিগঞ্জে প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও–এসি ল্যান্ড বদলি ক্ষমতায় গিয়েই নগ্ন দলীয়করণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্খার পরিপন্থি : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেটের জি কে গউছ জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

সিলেট মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে ফের জটিলতা দেখা দিয়েছে। এক বছর ধরে দায়িত্বের বাইরে থাকা সাবেক সভাপতি নাসিম হোসেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধূম্রজাল। কেন্দ্রীয় ঘোষণায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও পরবর্তীতে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ – সব মিলিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি।

দলের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে নাসিম হোসেইনের ‘স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের’ কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে নাসিমের কোনো পদই বিএনপি স্থগিত করেনি। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন আরেকটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়—ভুলবশত সভাপতি নাসিম হোসেইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ হয়েছিল, আসলে তাঁর পদ কখনও স্থগিত ছিল না।

এদিকে নাসিম হোসেইন দাবি করছেন, তিনি এখনও সিলেট মহানগর বিএনপির বৈধ সভাপতি। তাঁর ভাষায়, “পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় সভাপতি পদটি শূন্য রাখা হয়েছিল। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই।”

অন্যদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নাসিম হোসেইনকে রাখা হয়নি। তাই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাঁর কোনো নির্দেশনা নেই। আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছি।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ মহানগর বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন নাসিম হোসেইন। ২০২4 সালের জুলাইয়ে তিনি বিদেশে চলে গেলে ১ আগস্ট মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র। পরে ৪ নভেম্বর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক দুটি বিজ্ঞপ্তি একটি ভুল, একটি সংশোধিত—নেতৃত্ব সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে এখনো প্রশ্ন থেকে গেছে: নাসিম না কয়েস কে সভাপতি? সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

সিলেট মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক

প্রকাশের সময় : ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে ফের জটিলতা দেখা দিয়েছে। এক বছর ধরে দায়িত্বের বাইরে থাকা সাবেক সভাপতি নাসিম হোসেইনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ধূম্রজাল। কেন্দ্রীয় ঘোষণায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও পরবর্তীতে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ – সব মিলিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি।

দলের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে নাসিম হোসেইনের ‘স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের’ কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে নাসিমের কোনো পদই বিএনপি স্থগিত করেনি। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন আরেকটি সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়—ভুলবশত সভাপতি নাসিম হোসেইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ হয়েছিল, আসলে তাঁর পদ কখনও স্থগিত ছিল না।

এদিকে নাসিম হোসেইন দাবি করছেন, তিনি এখনও সিলেট মহানগর বিএনপির বৈধ সভাপতি। তাঁর ভাষায়, “পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় সভাপতি পদটি শূন্য রাখা হয়েছিল। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই।”

অন্যদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নাসিম হোসেইনকে রাখা হয়নি। তাই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাঁর কোনো নির্দেশনা নেই। আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছি।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১০ মার্চ মহানগর বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন নাসিম হোসেইন। ২০২4 সালের জুলাইয়ে তিনি বিদেশে চলে গেলে ১ আগস্ট মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র। পরে ৪ নভেম্বর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক দুটি বিজ্ঞপ্তি একটি ভুল, একটি সংশোধিত—নেতৃত্ব সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে এখনো প্রশ্ন থেকে গেছে: নাসিম না কয়েস কে সভাপতি? সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।