চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা করে অল্প সময়ে এত বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনে।
তিনি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। চেক জালিয়াতি ও ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন। মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেনের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ে।
এদিকে অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে না আসায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন এতে আরও অনেকেই জড়িত আছেন এবং বিষয়টি সত্য কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগে তিনি ৪ মাসে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। ২৮ অক্টোবর রাজনগর উপজেলা পরিষদে পরিদর্শনে যান মৌলভীবাজারের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন।
এ সময় পরিষদের ক্যাশ বইয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলে অনুপ দাসের জালিয়াতি ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তার বিষয়টি তদন্ত করেন। এতে দেখা যায়, অনুপ দাস উপজেলা হাট-বাজারের তহবিল থেকে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা, উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ৪০ লাখ টাকা ও উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এসব টাকার মধ্যে কিছু টাকা ব্যক্তি নামে নগদ উত্তোলন ও তার নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও বিষয়টি কারও নজরে না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
অনুপ দাশ রাজনগর উপজেলায় থাকা কালীন তার নিজস্ব ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তার শ্বশুর সাবেক মেম্বার কে চেয়ারম্যান পদে দাড় করিয়ে জাল ভোট ও প্রভাব বিস্তার করে চেয়ারম্যান হিসেবে পাশ করান. তার শ্বশুর ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার চঞ্চল ইউপি চেয়ারম্যান উওরভাগ ইউনিয়ন পরিষদ রাজনগর।
এ ছাড়া-ও তিনি তার নিজস্ব প্রভাব দিয়ে তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে শ্রীমঙ্গল তার বাড়ির পাশে দেবের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ( লালবাগ) এ বদলি করে নিয়ে আসেন, এ ছাড়াও সাধারণ মানুষদের ধোকা দিতে তার প্রায় তিন কোটি টাকা করছে আলিশান বাড়ীর সামনে “সোনালী ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ ” নামক একটি সাইনবোর্ড টানায়, কিন্তু সোনালী ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক জানান এই বাড়ির নামে কোনও লোন নেই, শুধুমাত্র ৫ লাখ টাকার একটা পারসোনাল লোন আছে। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিতে তিনি মুলত এমন সাইনবোর্ড টানায়।
তাহার শ্রীমঙ্গলের বাড়ীটি জায়গা সহ প্রায় ৪কোটি টাকা খরছ করে তৈরি করেন, যাতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহ একাধিক এসি, সহ আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। বাসায় কাজের জন্য একাধিক কাজের লোক আছে বলে জানা যায়।
পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত চেকে কিছু খালি জায়গা রেখে ইউএনও’র সামনে চেক হাজির করতো সে। স্বাক্ষর হয়ে গেলে ওই চেকে টাকার পরিমাণের আগে আর সংখ্যা বসিয়ে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দিতো অনুপ দাস। রাজনগরে তার চুরির বিষয়টি ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলায়ও খোঁজ করা হয়। সেখানে একই কায়দায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে সে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের তদন্তে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের মোবাইল ফোনে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা তুজ জোহরার মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোন রিসিভ করেন নি।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








