, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা মিসাইল আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা, সিলেটে পরিবারে উৎকণ্ঠা হবিগঞ্জে প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও–এসি ল্যান্ড বদলি ক্ষমতায় গিয়েই নগ্ন দলীয়করণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্খার পরিপন্থি : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেটের জি কে গউছ জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

সিলেট–১ আসনে নতুন সমীকরণ: চমক দেখাতে পারেন জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান

  • জুনেদ আহমদ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৯ পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট–১ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিনদিন বাড়ছে। এবার এ আসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জামায়াতের প্রার্থী মওলানা হাবিবুর রহমান। রাজনৈতিক মাঠে তাঁকে অনেকেই শুরুতে ততটা গুরুত্ব না দিলেও এখন পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে।

অলি–গলিতে বেড়ে ওঠা, পরিচিত মুখ

সিলেট শহরের অলি–গলিতে বড় হওয়া মওলানা হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সক্রিয়। স্থানীয় মসজিদভিত্তিক অনুসারী, ছাত্র–তরুণ শ্রেণির একটি অংশ এবং সামাজিক সংযোগের সুবাদে শহরজুড়ে তাঁর পরিচিতি দৃঢ়। তাঁর সমর্থকদের দাবি, শহরের প্রতিটি রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক আছে। এই স্থানীয় ভিত্তির কারণে তাঁকে এবার গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও।

প্রচারণায় তৎপরতা ও দৃশ্যমানতা বেড়েছে

গত কয়েক সাপ্তাহ ধরে সিলেট–১ আসনে জামায়াতের তৎপরতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। পাড়া-মহল্লায় ছোট সভা, লিফলেট বিতরণ, ঘরোয়া বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মওলানা হাবিবুর রহমানের প্রচারণা নজর কেড়েছে। তরুণ সমর্থকদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। তারা বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং, দরজায় দরজায় প্রচারণা এবং অনলাইন ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়েছেন।

ভোটারদের নীরবতা—বড় অঙ্কের হিসাব

সিলেট–১ আসনে ভোটারদের বড় অংশই শহুরে, শিক্ষিত এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্য। তাঁরা প্রকাশ্যে কার পক্ষে থাকছেন—তা জানা প্রায়ই কঠিন। মসজিদ–মহল্লাভিত্তিক যোগাযোগ, বাড়িতে বাড়িতে প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই ভোটারদের অনেককে টানার চেষ্টা চলছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, এ আসনে প্রতিবারই লড়াই হয়। এবারও উত্তাপ থাকবে। কে এগিয়ে—এটা এখনই বলা কঠিন।

কেন মওলানা হাবিবুর রহমান আলোচনায়?

রাজনৈতিক মাঠে তাঁকে ঘিরে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার কয়েকটি কারণ— শহরভিত্তিক স্থায়ী নেটওয়ার্ক, ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগ, তরুণ কর্মী–সমর্থকদের সক্রিয়তা, অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই বাড়তি উপস্থিতি, অন্য দলের অভ্যন্তরীণ সংকট বা বিভক্তি।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, তিনি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারেন। শক্তিশালী উপস্থিতি মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত যা নির্ধারণ করবে সিলেট–১ এর লড়াই

সিলেট–১ আসনের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে—দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, মাঠপর্যায়ের সংগঠনের শক্তি, তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রবাসী ভোটারের মনোভাব, প্রচারণা ধরে রাখার সক্ষমতা।

বর্তমানে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিশ্লেষকরা একমত—মওলানা হাবিবুর রহমানকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর সম্ভাবনা ও প্রভাব দুটোই বাড়ছে।

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

সিলেট–১ আসনে নতুন সমীকরণ: চমক দেখাতে পারেন জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান

প্রকাশের সময় : ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট–১ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিনদিন বাড়ছে। এবার এ আসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জামায়াতের প্রার্থী মওলানা হাবিবুর রহমান। রাজনৈতিক মাঠে তাঁকে অনেকেই শুরুতে ততটা গুরুত্ব না দিলেও এখন পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে।

অলি–গলিতে বেড়ে ওঠা, পরিচিত মুখ

সিলেট শহরের অলি–গলিতে বড় হওয়া মওলানা হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সক্রিয়। স্থানীয় মসজিদভিত্তিক অনুসারী, ছাত্র–তরুণ শ্রেণির একটি অংশ এবং সামাজিক সংযোগের সুবাদে শহরজুড়ে তাঁর পরিচিতি দৃঢ়। তাঁর সমর্থকদের দাবি, শহরের প্রতিটি রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক আছে। এই স্থানীয় ভিত্তির কারণে তাঁকে এবার গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও।

প্রচারণায় তৎপরতা ও দৃশ্যমানতা বেড়েছে

গত কয়েক সাপ্তাহ ধরে সিলেট–১ আসনে জামায়াতের তৎপরতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। পাড়া-মহল্লায় ছোট সভা, লিফলেট বিতরণ, ঘরোয়া বৈঠক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মওলানা হাবিবুর রহমানের প্রচারণা নজর কেড়েছে। তরুণ সমর্থকদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। তারা বিভিন্ন এলাকায় পোস্টারিং, দরজায় দরজায় প্রচারণা এবং অনলাইন ক্যাম্পেইনে যুক্ত হয়েছেন।

ভোটারদের নীরবতা—বড় অঙ্কের হিসাব

সিলেট–১ আসনে ভোটারদের বড় অংশই শহুরে, শিক্ষিত এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্য। তাঁরা প্রকাশ্যে কার পক্ষে থাকছেন—তা জানা প্রায়ই কঠিন। মসজিদ–মহল্লাভিত্তিক যোগাযোগ, বাড়িতে বাড়িতে প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই ভোটারদের অনেককে টানার চেষ্টা চলছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, এ আসনে প্রতিবারই লড়াই হয়। এবারও উত্তাপ থাকবে। কে এগিয়ে—এটা এখনই বলা কঠিন।

কেন মওলানা হাবিবুর রহমান আলোচনায়?

রাজনৈতিক মাঠে তাঁকে ঘিরে যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার কয়েকটি কারণ— শহরভিত্তিক স্থায়ী নেটওয়ার্ক, ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগ, তরুণ কর্মী–সমর্থকদের সক্রিয়তা, অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই বাড়তি উপস্থিতি, অন্য দলের অভ্যন্তরীণ সংকট বা বিভক্তি।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, তিনি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারেন। শক্তিশালী উপস্থিতি মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত যা নির্ধারণ করবে সিলেট–১ এর লড়াই

সিলেট–১ আসনের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে—দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, মাঠপর্যায়ের সংগঠনের শক্তি, তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রবাসী ভোটারের মনোভাব, প্রচারণা ধরে রাখার সক্ষমতা।

বর্তমানে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিশ্লেষকরা একমত—মওলানা হাবিবুর রহমানকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর সম্ভাবনা ও প্রভাব দুটোই বাড়ছে।