টানা কয়েকদিন ধরে লাশের খবরেই কাঁপছে সিলেট বিভাগ। মাজার, সড়ক, ঘর কিংবা বাজার—সব জায়গা থেকেই মিলছে মরদেহ। গত ৯ দিনে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জুড়ে উদ্ধার হয়েছে অন্তত ১৫টি লাশ। এর মধ্যে রয়েছে খুন, আত্মহত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা।
নিহতদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা, স্বর্ণ কারিগর, নববধূ, সৌদি ফেরত যুবক, পর্যটকসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১৫ জন।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে স্ত্রীকে খুন করে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী। ওসমানীনগরে জুয়েলারি দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে স্বর্ণ কারিগরের লাশ। শাহপরাণ (রহ.) মাজারের পুকুরে মিলেছে এক যুবকের গলাকাটা দেহ। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বাবা-মেয়ে ও আরও কয়েকজনের। রাজনগরে বিয়ের সাজে থাকা নববধূর ঝুলন্ত দেহ, কোম্পানীগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় পর্যটকের মৃত্যু, জৈন্তাপুরে গাছে ঝুলন্ত যুবকের লাশ—একটার পর একটা মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, এক সময়ের শান্ত সিলেট এখন পরিণত হয়েছে এক অজানা ভয়ের বিভাগে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে। কিছু মৃত্যু দুর্ঘটনা হলেও কিছু রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “গুজব না ছড়িয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিটি ঘটনাতেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
বিশ্লেষণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সিলেট বিভাগে এমন ধারাবাহিক লাশ উদ্ধারের ঘটনা বিরল। সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মৃত্যুগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়—বরং সমাজে ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ, পারিবারিক টানাপোড়েন ও অপরাধপ্রবণতারও প্রতিফলন। প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















