, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা মিসাইল আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা, সিলেটে পরিবারে উৎকণ্ঠা হবিগঞ্জে প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও–এসি ল্যান্ড বদলি ক্ষমতায় গিয়েই নগ্ন দলীয়করণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্খার পরিপন্থি : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেটের জি কে গউছ জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

দুর্দিনে দলের ভরসা, সুদিনে উপেক্ষিত : সিলেট-সুনামগঞ্জে আলোচনায় ছাত্রদল প্রজন্ম

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সিলেট-৬ আসনের ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মিজানুর রহমান চৌধুরী। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ওই সময় তারা দলের হয়ে ভোটের মাঠে ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয় তরুণ প্রার্থীদের একজন। ভোটের পর পরাজয়ের দায় নয়, বরং ‘রাতের ভোট’ মোকাবিলার সাহসিকতার জন্য তারা পরিচিতি পান ‘ছাত্রদল জুটি’ নামে।

দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই দুই নেতা বিএনপির দুর্দিনে দলকে আগলে রেখেছিলেন। মামলায় জেল, হামলা ও হয়রানি—সবকিছুর মধ্যেও তারা রাজপথ ছাড়েননি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, এবার দলের ‘সুদিনে’ তাদেরই পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। সিলেট-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, আর সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন। ফলে মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন ফয়সল ও মিজান।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, “দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। জনবান্ধব ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়সল চৌধুরী লড়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে, আর মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে। মাঠের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলে। তবে ভোট শেষে অভিযোগ ওঠে—‘রাতের ভোটে’ তাদের পরাজিত করা হয়েছে।

এরপরের বছরগুলোতে তাদের ওপর চলে নানা ধরপাকড় ও হয়রানি। মিজানুর রহমানের বাসায় হামলা, ১৭টি মামলা, দুই শতাধিক কর্মীর জেল—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছেন তিনি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ফয়সল চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানেও হয়েছে একাধিক হামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি।

মনোনয়নবঞ্চনার পরও এই দুই নেতা প্রকাশ্যে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং তারা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “২০১৮ সালের সেই নির্বাচন যদি রাতে না হয়ে দিনে হতো, তাহলে ধানের শীষের জয় কেউ ঠেকাতে পারত না। আজ যারা সেই লড়াই করেছিল, তারাই উপেক্ষিত।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির এবারের প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠের পরিশ্রমী ও জনভিত্তি সম্পন্ন নেতাদের বাদ পড়া একটি ভুল বার্তা দিতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীরা আগের ভোটের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামায় সিলেট-৬ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন, সুদিনে তারা কি সত্যিই ভুলে যাওয়া উচিত?

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

দুর্দিনে দলের ভরসা, সুদিনে উপেক্ষিত : সিলেট-সুনামগঞ্জে আলোচনায় ছাত্রদল প্রজন্ম

প্রকাশের সময় : ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সিলেট-৬ আসনের ফয়সল আহমদ চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মিজানুর রহমান চৌধুরী। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ওই সময় তারা দলের হয়ে ভোটের মাঠে ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয় তরুণ প্রার্থীদের একজন। ভোটের পর পরাজয়ের দায় নয়, বরং ‘রাতের ভোট’ মোকাবিলার সাহসিকতার জন্য তারা পরিচিতি পান ‘ছাত্রদল জুটি’ নামে।

দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই দুই নেতা বিএনপির দুর্দিনে দলকে আগলে রেখেছিলেন। মামলায় জেল, হামলা ও হয়রানি—সবকিছুর মধ্যেও তারা রাজপথ ছাড়েননি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, এবার দলের ‘সুদিনে’ তাদেরই পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। সিলেট-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, আর সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন। ফলে মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন ফয়সল ও মিজান।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, “দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। জনবান্ধব ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়সল চৌধুরী লড়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে, আর মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে। মাঠের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলে। তবে ভোট শেষে অভিযোগ ওঠে—‘রাতের ভোটে’ তাদের পরাজিত করা হয়েছে।

এরপরের বছরগুলোতে তাদের ওপর চলে নানা ধরপাকড় ও হয়রানি। মিজানুর রহমানের বাসায় হামলা, ১৭টি মামলা, দুই শতাধিক কর্মীর জেল—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছেন তিনি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ফয়সল চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানেও হয়েছে একাধিক হামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি।

মনোনয়নবঞ্চনার পরও এই দুই নেতা প্রকাশ্যে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং তারা কর্মীদের ধৈর্য ধরতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “২০১৮ সালের সেই নির্বাচন যদি রাতে না হয়ে দিনে হতো, তাহলে ধানের শীষের জয় কেউ ঠেকাতে পারত না। আজ যারা সেই লড়াই করেছিল, তারাই উপেক্ষিত।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির এবারের প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠের পরিশ্রমী ও জনভিত্তি সম্পন্ন নেতাদের বাদ পড়া একটি ভুল বার্তা দিতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীরা আগের ভোটের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামায় সিলেট-৬ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন, সুদিনে তারা কি সত্যিই ভুলে যাওয়া উচিত?