, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা মিসাইল আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা, সিলেটে পরিবারে উৎকণ্ঠা হবিগঞ্জে প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও–এসি ল্যান্ড বদলি ক্ষমতায় গিয়েই নগ্ন দলীয়করণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্খার পরিপন্থি : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেটের জি কে গউছ জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

সিলেট-৫: জোট নাকি দলীয় প্রার্থী—দ্বিধায় বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)। দীর্ঘ ২৯ বছর পর এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে স্থানীয় রাজনীতিতে।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিএনপির কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও জোটের সমীকরণের কারণে প্রায় তিন দশক ধরে এ আসনটি জোটের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে এবার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সরব। তাদের দাবি, এই আসনে বিএনপিরই প্রার্থী চাই।

Kiswan

এদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি আবারও জোটে যায়, তাহলে আসনটি জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত তালিকায় সিলেট জেলার ১, ২, ৩ এবং ৬ আসনের প্রার্থীর নাম থাকলেও, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় পর্যায়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে স্থানীয় নেতারা বলছেন, এবার জোট নয়, এই আসনে বিএনপিরই প্রার্থী দেওয়া হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) একাধিক বক্তব্যে বলেছিলেন, আমি উচ্চ পর্যায় থেকে বার্তা পেয়েছি, এই আসনে এবার জোট হবে না, বিএনপিই প্রার্থী দেবে। আমরা আশাবাদী, জনগণের ভালোবাসা ও দলের আস্থা নিয়ে মাঠে থাকতে চাই।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), আশিক উদ্দিন চৌধুরী, মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সামিরা তানজিন চৌধুরী ও জাকির হোসেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই আসনে বিএনপি খুবই শক্তিশালী। দলীয় প্রার্থী দিলে জয় পাওয়া সম্ভব। জোটের প্রার্থীরা অতীতে টিকতে পারেননি, এবার ভিন্ন ফলাফল আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কি এবারও জোটের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে নাকি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেবে।

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আবদুল কাহির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ছিলেন আবুল হারিছ চৌধুরী। এর পর থেকে প্রায় ২৯ বছর বিএনপি আর সরাসরি এই আসনে প্রার্থী দেয়নি।

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

সিলেট-৫: জোট নাকি দলীয় প্রার্থী—দ্বিধায় বিএনপি

প্রকাশের সময় : ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)। দীর্ঘ ২৯ বছর পর এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে স্থানীয় রাজনীতিতে।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিএনপির কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও জোটের সমীকরণের কারণে প্রায় তিন দশক ধরে এ আসনটি জোটের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে এবার স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সরব। তাদের দাবি, এই আসনে বিএনপিরই প্রার্থী চাই।

Kiswan

এদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি আবারও জোটে যায়, তাহলে আসনটি জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত তালিকায় সিলেট জেলার ১, ২, ৩ এবং ৬ আসনের প্রার্থীর নাম থাকলেও, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় পর্যায়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে স্থানীয় নেতারা বলছেন, এবার জোট নয়, এই আসনে বিএনপিরই প্রার্থী দেওয়া হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) একাধিক বক্তব্যে বলেছিলেন, আমি উচ্চ পর্যায় থেকে বার্তা পেয়েছি, এই আসনে এবার জোট হবে না, বিএনপিই প্রার্থী দেবে। আমরা আশাবাদী, জনগণের ভালোবাসা ও দলের আস্থা নিয়ে মাঠে থাকতে চাই।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), আশিক উদ্দিন চৌধুরী, মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সামিরা তানজিন চৌধুরী ও জাকির হোসেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই আসনে বিএনপি খুবই শক্তিশালী। দলীয় প্রার্থী দিলে জয় পাওয়া সম্ভব। জোটের প্রার্থীরা অতীতে টিকতে পারেননি, এবার ভিন্ন ফলাফল আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কি এবারও জোটের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে নাকি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেবে।

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আবদুল কাহির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ছিলেন আবুল হারিছ চৌধুরী। এর পর থেকে প্রায় ২৯ বছর বিএনপি আর সরাসরি এই আসনে প্রার্থী দেয়নি।