সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত ধলাই ব্রিজে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন। ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর তোলায় কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্রিজটি রক্ষায় ০৩ নভেম্বর (সোমবার) সকাল ১০টা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) দায়িত্বপ্রাপ্ত পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ব্রিজের নিচ থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত সর্বমোট ১০৩টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
এসিল্যান্ড পলাশ তালুকদার বলেন, “ধলাই ব্রিজটি কোম্পানীগঞ্জ ও আশপাশের মানুষের জীবনরেখা। অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনে ব্রিজের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা অভিযান চালিয়ে নৌকাগুলো জব্দ করেছি। এ অভিযান চলমান থাকবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের মাঝামাঝি অংশে কংক্রিটের বড় ফাটল, রড বের হয়ে আসা এবং ভাঙা স্থানে পাথর বসিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত না করলে ব্রিজের অংশবিশেষ ধসে পড়তে পারে।
এদিকে, কিছু ব্যক্তি এই অভিযানকে ‘গরিব মারার অভিযান’ বলে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজ বলছেন, ব্রিজ রক্ষাই এখন অগ্রাধিকার— কারণ ব্রিজটি ভেঙে গেলে কোম্পানীগঞ্জের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, “দিনে সবাই বলে ব্রিজ বাঁচাও, রাতে আবার একই ব্রিজের নিচে নৌকা নামিয়ে পাথর তোলা হয়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ব্রিজ রক্ষা করা যাবে না।”
প্রশাসন জানিয়েছে, ধলাই ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
উল্লেখ্য, ধলাই ব্রিজটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ, প্রতিদিন শত শত যানবাহন এ পথে চলাচল করে। ব্রিজটি ধসে পড়লে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















