, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব ভারতের ভিসা শীঘ্রই চালু হবে: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের আশ্বাস জাল ভিসায় লন্ডন পাঠানোর প্রলোভন: ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, র‍্যাব-৯’র জালে মনির সিলেটে তরুণদের নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিতে পরামর্শ সভা সিলেটে ওয়ালটনের পণ্য কিনে উপহার পেলেন ৮ ক্রেতা মিসাইল আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা, সিলেটে পরিবারে উৎকণ্ঠা হবিগঞ্জে প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও–এসি ল্যান্ড বদলি ক্ষমতায় গিয়েই নগ্ন দলীয়করণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্খার পরিপন্থি : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেটের জি কে গউছ জাতীয় সংসদের হুইপ মনোনীত এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

লিডার আমাকে প্রার্থিতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন, সময় এলে সব খোলাসা হবে : আরিফুল হক চৌধুরী

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (০৯ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে এ বৈঠক হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘লিডারের (তারেক রহমান) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, দলকে কীভাবে আরও সুসংগঠিত করা যায়, এসব বিষয়সহ সিলেট অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি আমাকে প্রার্থিতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। তবে এখনই এসব নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সময় এলেই সব খোলাসা হবে।’

এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আরিফুল সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারেক ও আরিফুলের বৈঠকের ছবিসহ ‘শুভ কিছু হচ্ছে’ লিখে স্ট্যাটাসও দেন।

আরিফুলের ঘনিষ্ঠ এক নেতা দাবি করেন, তারেক রহমানের সঙ্গে আরিফুলের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। সিলেট-১ আসনে তারেক রহমান কিংবা তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা আছে। এমনটা হলে আরিফুল হক সিলেট–৪ অথবা সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। অন্যদিকে জিয়া পরিবারের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে আরিফুলের সিলেট–১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুল মূলত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তার প্রথম পছন্দ সিলেট-১ আসন। তবে এখানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা আগামী নির্বাচনেও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। ফলে মুক্তাদীরকে ডিঙিয়ে আরিফুলের এখানে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। এ ক্ষেত্রে আরিফুলকে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলের ভেতরে আলোচনা আছে।

অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাউর আছে। যদিও এখানে দলের ভেতরে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। তাঁরা হচ্ছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন একসময়ের ছাত্রদলের প্রভাবশালী এই নেতা।

আরিফুল ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন। ২০১৮ সালের পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র সিলেটে বিএনপি থেকে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনিও প্রার্থী হননি।

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো: মহাসচিব

লিডার আমাকে প্রার্থিতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন, সময় এলে সব খোলাসা হবে : আরিফুল হক চৌধুরী

প্রকাশের সময় : ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (০৯ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে এ বৈঠক হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘লিডারের (তারেক রহমান) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, দলকে কীভাবে আরও সুসংগঠিত করা যায়, এসব বিষয়সহ সিলেট অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি আমাকে প্রার্থিতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। তবে এখনই এসব নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সময় এলেই সব খোলাসা হবে।’

এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আরিফুল সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারেক ও আরিফুলের বৈঠকের ছবিসহ ‘শুভ কিছু হচ্ছে’ লিখে স্ট্যাটাসও দেন।

আরিফুলের ঘনিষ্ঠ এক নেতা দাবি করেন, তারেক রহমানের সঙ্গে আরিফুলের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। সিলেট-১ আসনে তারেক রহমান কিংবা তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা আছে। এমনটা হলে আরিফুল হক সিলেট–৪ অথবা সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। অন্যদিকে জিয়া পরিবারের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে আরিফুলের সিলেট–১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরিফুল মূলত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তার প্রথম পছন্দ সিলেট-১ আসন। তবে এখানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা আগামী নির্বাচনেও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। ফলে মুক্তাদীরকে ডিঙিয়ে আরিফুলের এখানে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। এ ক্ষেত্রে আরিফুলকে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলের ভেতরে আলোচনা আছে।

অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাউর আছে। যদিও এখানে দলের ভেতরে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। তাঁরা হচ্ছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন একসময়ের ছাত্রদলের প্রভাবশালী এই নেতা।

আরিফুল ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন। ২০১৮ সালের পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র সিলেটে বিএনপি থেকে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনিও প্রার্থী হননি।