সিলেট বিভাগে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই বিভাগের চার জেলায় ৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং অদক্ষ চালকই দুর্ঘটনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তারা বলছেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সিলেট বিভাগে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হন। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেল ও ভারী যানবাহনের সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া এবং পথচারী চাপা দেওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটছে।
দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক ও সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কসহ বিভিন্ন ফিডার রোডে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ চালনা, মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার না করা এবং রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী।
জেলার ভিত্তিতে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। সেখানে ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৪টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় ৬টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৩টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়া, মুখোমুখি সংঘর্ষ, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগা এবং পথচারী চাপা দেওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সংস্কার, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সচেতনতা বাড়ানো না গেলে সিলেটের সড়কে মৃত্যুর এই মিছিল থামানো কঠিন হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 














