সিলেটে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির গায়েবানা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর)) বাদ জোহর সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট কালেক্টরেট মসজিদের সম্মুখে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জানাজায় উপস্থিত সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওসমান হাদির খুনীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হয়। এমন ঘটনার যেনো আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তিনি বলেন, যারা মনে করে এক হাদিকে হত্যা করলে জুলাই আন্দোলন নস্যাৎ করা যাবে, তারা ভুল জায়গায় আছেন। একজন হাদিকে হত্যার মধ্য দিয়ে লক্ষ হাদি এই বাংলাদেশে জন্ম নিবে। একইসাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকাই হোক আজকের দিনের প্রত্যাশা। যেকোনো মূল্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্র যাতে আর সংগঠিত হতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে। আমরা চাই না, হাদির মত আর কোনো নেতা এরকম ষড়যন্ত্রের শিকার হোক।
সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে ডিসি বলেন, আমরা এমন কিছু করব না যাতে মানুষের কষ্ট হয়, সম্পদ বিনষ্ট হয়, নিরীহ মানুষ কষ্ট পায়, রাষ্ট্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, আমাদের ইমেজের ক্ষতি হয়। কেউ দয়া করে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। সিলেট সম্প্রীতির শহর। যিনি অপরাধ করবেন তাকে শাস্তির আওতায় অবশ্যই আসতে হবে- বলেন মো. সারওয়ার আলম।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। গণ অভ্যুত্থানে ২০ হাজারের মতো মানুষ আহত হয়েছেন। যে প্রত্যাশা থেকে মানুষ মুক্তির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের মূল বিষয় ছিলো তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা গত ১৫-১৬ মাসে অনেক কিছু দেখেছি। ওসমান হাদি আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের একজন অকুতভয় সৈনিক ছিলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন, সমাজের অসঙ্গতিগুলো তোলে ধরেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি আপোষহীন ছিলেন। ওনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়াকে অনুসরন করতেন। সেই ওসমান হাদিকে একটি গোষ্ঠী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। যে গোষ্ঠীটি এদেশে নির্বাচন চায় না, যে গোষ্ঠী এ দেশের পরিবেশ ও পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে, তারাই ওসমান হাদিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, হাদি আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু শত শত লক্ষ লক্ষ হাদি এ দেশে জন্ম নেমে সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে। হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেশের প্রতিটি মানুষের দাবি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ওসমান হাদির মাথায় নয়, বরং গণতন্ত্রের মাথায় গুলি করা হয়েছে। হাদি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম সারির একজন নেতা। তিনি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে, নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছেন। তার এই মৃত্যু অপ্রত্যাশিত, অবশ্যই এর পেছনে গভীর কোন ষড়যন্ত্র আছে। আগামী নির্বাচনে যেনো সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকে সেজন্য এমন ষড়যন্ত্র হতে পারে। নির্বাচন না হলে যারা বেনিফিশিয়ারি হবে (সুবিধা লাভ) তারাই এই ষড়যন্ত্র করছে।
এর আগে, এ উপলক্ষে আয়োজকরা দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে গায়েবানা জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। সিলেট জেলা জুলাই যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক লিটন আহমেদ ও সদস্য সচিব নোমান আহমেদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর শাহাদাত জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 










