, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের দ্বীনি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা অপরিহার্য : অ্যাডভোকেট আব্দুর রব সিলেট থেকে রোহিঙ্গা যুবক আটক লাফার্জের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ঠিকাদারি না পেয়ে মামলা লাফার্জহোলসিম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ: এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও

দেশ ছাড়ার স্বপ্নে বিভোর সিলেটের তরুণরা

‘দ্বিতীয় লন্ডন’ নামে পরিচিত সিলেট বরাবরই প্রবাসননির্ভর একটি অঞ্চল। একসময় যুক্তরাজ্যই ছিল প্রধান গন্তব্য, এখন সেই তালিকা অনেক দীর্ঘ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন সিলেটের তরুণরা। উচ্চশিক্ষা, কাজ কিংবা উন্নত জীবনের আশায় এই বিদেশমুখিতা দিন দিন বাড়ছেই।

সিলেট নগরীর আইইএলটিএস সেন্টারগুলোতে এখন নিয়মিত ভিড়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের বদলে অনেকে ব্যস্ত ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, রোমানিয়া, গ্রিস, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও মাল্টার মতো দেশগুলো তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ছাড়ছেন।

বিশেষ করে সম্প্রতি কানাডাগামীদের সংখ্যা বেড়েছে। ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, কানাডার ভিজিট ভিসা আগের তুলনায় সহজে মিলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যন্ত ভিসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারসহ আবেদন করছেন অনেকেই। ভিএফএস গ্লোবাল ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

তবে এই বিদেশমুখিতাকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে দেশে মেধা সংকট তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভবিষ্যতে এই তরুণরাই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন। বাস্তবতা হলো—দু’টি দিকই সমানভাবে সামনে আসছে।

সব স্বপ্ন কিন্তু পূরণ হচ্ছে না। ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেক তরুণ ভিসা পাননি। এতে হতাশা বাড়ছে। আবার বিদেশে গিয়েও অনেকে পড়ছেন বিপাকে। উচ্চ টিউশন ফি, আবাসন সংকট এবং কাজের সুযোগ না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

এ পরিস্থিতিতে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। সিলেট নগরীতে গড়ে ওঠা অসংখ্য ভুঁইফোঁড় এজেন্সির ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ অর্থ ও সময় দুটোই হারাচ্ছেন। তবুও বিদেশ যাওয়ার আকর্ষণ কমছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের সামাজিক প্রভাব বা ‘ডেমোনস্ট্রেশন ইফেক্ট’। প্রবাসী আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের তুলনামূলক স্বচ্ছল জীবন দেখে তরুণরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। পাশাপাশি দেশে কাঙ্ক্ষিত চাকরির অভাব, বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়াও বিদেশমুখিতার বড় কারণ।

শিক্ষাবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দেশে আরও বাড়ানো গেলে এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলে তরুণদের বিদেশমুখিতা কিছুটা হলেও কমতে পারে। নইলে স্বপ্ন আর অনিশ্চয়তার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে সিলেটের তরুণদের এই বিদেশযাত্রা আরও দীর্ঘ হবে।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়নের প্রত্যাশা এম এ মালিকের

দেশ ছাড়ার স্বপ্নে বিভোর সিলেটের তরুণরা

প্রকাশের সময় : ০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

‘দ্বিতীয় লন্ডন’ নামে পরিচিত সিলেট বরাবরই প্রবাসননির্ভর একটি অঞ্চল। একসময় যুক্তরাজ্যই ছিল প্রধান গন্তব্য, এখন সেই তালিকা অনেক দীর্ঘ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন সিলেটের তরুণরা। উচ্চশিক্ষা, কাজ কিংবা উন্নত জীবনের আশায় এই বিদেশমুখিতা দিন দিন বাড়ছেই।

সিলেট নগরীর আইইএলটিএস সেন্টারগুলোতে এখন নিয়মিত ভিড়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের বদলে অনেকে ব্যস্ত ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, রোমানিয়া, গ্রিস, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও মাল্টার মতো দেশগুলো তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ছাড়ছেন।

বিশেষ করে সম্প্রতি কানাডাগামীদের সংখ্যা বেড়েছে। ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, কানাডার ভিজিট ভিসা আগের তুলনায় সহজে মিলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যন্ত ভিসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারসহ আবেদন করছেন অনেকেই। ভিএফএস গ্লোবাল ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

তবে এই বিদেশমুখিতাকে ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে দেশে মেধা সংকট তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভবিষ্যতে এই তরুণরাই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন। বাস্তবতা হলো—দু’টি দিকই সমানভাবে সামনে আসছে।

সব স্বপ্ন কিন্তু পূরণ হচ্ছে না। ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেক তরুণ ভিসা পাননি। এতে হতাশা বাড়ছে। আবার বিদেশে গিয়েও অনেকে পড়ছেন বিপাকে। উচ্চ টিউশন ফি, আবাসন সংকট এবং কাজের সুযোগ না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী।

এ পরিস্থিতিতে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। সিলেট নগরীতে গড়ে ওঠা অসংখ্য ভুঁইফোঁড় এজেন্সির ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ অর্থ ও সময় দুটোই হারাচ্ছেন। তবুও বিদেশ যাওয়ার আকর্ষণ কমছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের সামাজিক প্রভাব বা ‘ডেমোনস্ট্রেশন ইফেক্ট’। প্রবাসী আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের তুলনামূলক স্বচ্ছল জীবন দেখে তরুণরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। পাশাপাশি দেশে কাঙ্ক্ষিত চাকরির অভাব, বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়াও বিদেশমুখিতার বড় কারণ।

শিক্ষাবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দেশে আরও বাড়ানো গেলে এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলে তরুণদের বিদেশমুখিতা কিছুটা হলেও কমতে পারে। নইলে স্বপ্ন আর অনিশ্চয়তার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে সিলেটের তরুণদের এই বিদেশযাত্রা আরও দীর্ঘ হবে।