, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দ্বীনি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা অপরিহার্য : অ্যাডভোকেট আব্দুর রব সিলেট থেকে রোহিঙ্গা যুবক আটক লাফার্জের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ঠিকাদারি না পেয়ে মামলা লাফার্জহোলসিম এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ: এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত

ঈদের ছুটিতে এবার সিলেটে ঘুরতে এসেছেন ২০ লাখ পর্যটক

কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট কিংবা পর্যটন স্পষ্ট সব জায়গায় গিজগিজ করছে পর্যটক। হোটেল-রিসোর্টে সিট না পেয়ে অনেককে বাইরে রাত কাটাতে হচ্ছে। কোথাও যেন তিলধারণের ঠাঁই নেই। ভিড়ের কারণে ঠিকমতো নড়াচড়াও করা যাচ্ছে না। পছন্দমতো একটা ছবি তোলাও রীতিমতো দুষ্কর ব্যাপার। চা বাগানগুলোতেও উপচেপড়া ভিড়। খাবারের দোকানগুলোয় লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। খাবারের সময় সিটে বসে খাওয়া যেন সৌভাগ্যের ব্যাপার।

এমন দৃশ্য পর্যটন অঞ্চল সিলেটের। ঈদের দিন থেকে গত তিন দিন ধরে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ধারণা করা হচ্ছে, এবার অন্তত ২০ লাখ মানুষ ঈদের ছুটি কাটাতে বৃহত্তর সিলেটে ঘুরতে এসেছেন। বিশাল এই জনস্রোত সামাল দিতে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঈদ জামায়াতের পর থেকে সারা দেশের স্রোত যেন সিলেটের দিকে। ঈদের আগের দিনে ও রাতেও যেখানে সিলেট-ঢাকা রুটের বাসগুলোর সিট ফাঁকা আসে, সেখানে ঈদের দিন সকাল থেকে সিট পেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়!

দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবার ঈদের চতুর্থ দিনেও বিপুলসংখ্যক পর্যটককে সিলেট এসে ঢুকতে দেখা গেছে। চায়ের পাতায় মুগ্ধ হয়ে তারা আধ্যাত্মিক রাজধানী ও পর্যটন অঞ্চল সিলেটের দিকে ছুটে আসছেন। গতকালও পূর্ব বুকিং ছাড়া সিলেটের কোনো হোটেল-মোটেল বা রিসোর্ট নতুন কাউকে রুম দিতে পারেনি। কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট সাদা পাথর ও জাফলং, বিছনাকান্দি, লালাখাল, রাতারগুল। এসব পর্যটনকেন্দ্রে মানুষজন ছুটে যাচ্ছেন সকাল থেকে। বিকেলের দিকে তা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। হৈহুল্লোড় ও সাঁতার কেটে, পানিতে ডুব দিয়ে, সেলফি তুলে এক অপূর্ব সুন্দর সময় কাটান এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করে মুগ্ধ তারা।

সিলেটে ঘুরতে আসা ঢাকায় কর্মরত একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, সাদা পাথর এলাকার সৌন্দর্যে আমরা বিমোহিত। সেখানে যাওয়ার পথের চা বাগান আমাদের আরও বেশি মুগ্ধ করেছে।

তিনি অবশ্য সিলেটে এসে ভুলেননি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরানকে (রহ.)। শুরুতেই তাদের মাজার জিয়ারত করেছেন। তার মতো প্রায় সবাই মাজার জিয়ারত করেই সিলেটে ঘুরতে বের হন। সিলেটে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এ দুটি মাজার। এসব মাজার ঘিরে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেছেন। বিশেষ করে নগরীর শাহজালাল দরগাহে পর্যটকদের ভিড় উপচেপড়া।

সিলেটে আসা পর্যটকদের একটি বড় অংশ শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্পট এবং রিসোর্টে উঠেছেন। তারা সিলেট শহরে না এসে আবার গন্তব্যে ফিরে যান। সেখানকার হোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন পর্যটকে ভরপুর।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এই সিলেট। এখানে বেড়ানোর জায়গার যেন শেষ নেই। উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা সিলেটে পাহাড়ের ঢেউ খেলানো চা-বাগান নিমিষেই পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। মহানগরের মধ্যে লাক্কাতুড়া, মালনিছড়া, তারাপুর ও দলদলি চা বাগান অবস্থিত। স্থানীয় ও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে বেড়াচ্ছেন আনন্দ খুশিতে।

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এরিয়াতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করেছে।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, সাদা পাথর ও জাফলংয়ে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার ওসিসহ পুলিশের সব কর্মকর্তাকে সার্বিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ব্যবস্থা নেওয়া আছে। বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে ও কেন্দ্রগুলোর বাইরে পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে।

দ্বীনি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা অপরিহার্য : অ্যাডভোকেট আব্দুর রব

ঈদের ছুটিতে এবার সিলেটে ঘুরতে এসেছেন ২০ লাখ পর্যটক

প্রকাশের সময় : ১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট কিংবা পর্যটন স্পষ্ট সব জায়গায় গিজগিজ করছে পর্যটক। হোটেল-রিসোর্টে সিট না পেয়ে অনেককে বাইরে রাত কাটাতে হচ্ছে। কোথাও যেন তিলধারণের ঠাঁই নেই। ভিড়ের কারণে ঠিকমতো নড়াচড়াও করা যাচ্ছে না। পছন্দমতো একটা ছবি তোলাও রীতিমতো দুষ্কর ব্যাপার। চা বাগানগুলোতেও উপচেপড়া ভিড়। খাবারের দোকানগুলোয় লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। খাবারের সময় সিটে বসে খাওয়া যেন সৌভাগ্যের ব্যাপার।

এমন দৃশ্য পর্যটন অঞ্চল সিলেটের। ঈদের দিন থেকে গত তিন দিন ধরে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ধারণা করা হচ্ছে, এবার অন্তত ২০ লাখ মানুষ ঈদের ছুটি কাটাতে বৃহত্তর সিলেটে ঘুরতে এসেছেন। বিশাল এই জনস্রোত সামাল দিতে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঈদ জামায়াতের পর থেকে সারা দেশের স্রোত যেন সিলেটের দিকে। ঈদের আগের দিনে ও রাতেও যেখানে সিলেট-ঢাকা রুটের বাসগুলোর সিট ফাঁকা আসে, সেখানে ঈদের দিন সকাল থেকে সিট পেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়!

দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবার ঈদের চতুর্থ দিনেও বিপুলসংখ্যক পর্যটককে সিলেট এসে ঢুকতে দেখা গেছে। চায়ের পাতায় মুগ্ধ হয়ে তারা আধ্যাত্মিক রাজধানী ও পর্যটন অঞ্চল সিলেটের দিকে ছুটে আসছেন। গতকালও পূর্ব বুকিং ছাড়া সিলেটের কোনো হোটেল-মোটেল বা রিসোর্ট নতুন কাউকে রুম দিতে পারেনি। কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট সাদা পাথর ও জাফলং, বিছনাকান্দি, লালাখাল, রাতারগুল। এসব পর্যটনকেন্দ্রে মানুষজন ছুটে যাচ্ছেন সকাল থেকে। বিকেলের দিকে তা লোকারণ্য হয়ে ওঠে। হৈহুল্লোড় ও সাঁতার কেটে, পানিতে ডুব দিয়ে, সেলফি তুলে এক অপূর্ব সুন্দর সময় কাটান এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করে মুগ্ধ তারা।

সিলেটে ঘুরতে আসা ঢাকায় কর্মরত একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, সাদা পাথর এলাকার সৌন্দর্যে আমরা বিমোহিত। সেখানে যাওয়ার পথের চা বাগান আমাদের আরও বেশি মুগ্ধ করেছে।

তিনি অবশ্য সিলেটে এসে ভুলেননি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরানকে (রহ.)। শুরুতেই তাদের মাজার জিয়ারত করেছেন। তার মতো প্রায় সবাই মাজার জিয়ারত করেই সিলেটে ঘুরতে বের হন। সিলেটে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এ দুটি মাজার। এসব মাজার ঘিরে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেছেন। বিশেষ করে নগরীর শাহজালাল দরগাহে পর্যটকদের ভিড় উপচেপড়া।

সিলেটে আসা পর্যটকদের একটি বড় অংশ শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্পট এবং রিসোর্টে উঠেছেন। তারা সিলেট শহরে না এসে আবার গন্তব্যে ফিরে যান। সেখানকার হোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন পর্যটকে ভরপুর।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এই সিলেট। এখানে বেড়ানোর জায়গার যেন শেষ নেই। উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা সিলেটে পাহাড়ের ঢেউ খেলানো চা-বাগান নিমিষেই পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। মহানগরের মধ্যে লাক্কাতুড়া, মালনিছড়া, তারাপুর ও দলদলি চা বাগান অবস্থিত। স্থানীয় ও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে বেড়াচ্ছেন আনন্দ খুশিতে।

সিলেটের সাদা পাথর এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এখানকার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এরিয়াতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করেছে।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, সাদা পাথর ও জাফলংয়ে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার ওসিসহ পুলিশের সব কর্মকর্তাকে সার্বিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ব্যবস্থা নেওয়া আছে। বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে ও কেন্দ্রগুলোর বাইরে পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে।