, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

মৃদু ভূমিকম্পে সতর্কবার্তা: ভোরে কেঁপে উঠলো সিলেট

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে হালকা মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতীয় ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.০, যা মৃদু হিসেবে বিবেচিত।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল অক্ষাংশ ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্বে, এবং ভূ-পৃষ্ঠের তুলনায় অগভীর ২০ কিলোমিটার গভীরে। আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থা ভলক্যানো ডিসকাভারি এটিকে বাংলাদেশে হালকা কম্পনের ঘটনা হিসেবে সনাক্ত করেছে।

এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে মাঝারি থেকে বড় ধরণের ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে নরসিংদীতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হলেও, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এটি নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এ প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাংলাদেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব বিবেচনায় দেশটিকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে ঢাকাকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজধানীতে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ ভাগ অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং অনেক ভবন জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করেই তৈরি।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

মৃদু ভূমিকম্পে সতর্কবার্তা: ভোরে কেঁপে উঠলো সিলেট

প্রকাশের সময় : ০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে হালকা মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতীয় ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.০, যা মৃদু হিসেবে বিবেচিত।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল অক্ষাংশ ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্বে, এবং ভূ-পৃষ্ঠের তুলনায় অগভীর ২০ কিলোমিটার গভীরে। আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প বিষয়ক সংস্থা ভলক্যানো ডিসকাভারি এটিকে বাংলাদেশে হালকা কম্পনের ঘটনা হিসেবে সনাক্ত করেছে।

এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে মাঝারি থেকে বড় ধরণের ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে নরসিংদীতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হলেও, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এটি নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এ প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাংলাদেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব বিবেচনায় দেশটিকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে ঢাকাকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজধানীতে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ ভাগ অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং অনেক ভবন জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করেই তৈরি।