সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় বাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শাহ ইসমাইল (২৮) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহ ইসমাইল স্থানীয় কাজিপুর (খারমাপুর) গ্রামের মৃত শাহ কাপ্তান আলীর চতুর্থ ছেলে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানাজার প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরে কাজিপুর (খারমাপুর) গ্রামের শাহ মামুন আলী এবং একই এলাকার সাবেক উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সিরাজুজ্জামান মঙ্গু খার ছেলে হাসানের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করা হলেও সন্ধ্যায় বোয়ালজুড় বাজারে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শুক্রবার সালিশের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশের আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসান ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাহ মামুন আলীকে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তাকে ধাওয়া দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় মামুন আলী সরে গেলে রাতের দিকে বড় ভাইয়ের খোঁজ নিতে শাহ ইসমাইল ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ইসমাইলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা তয়রুন বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার জন্য হাসান ও তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মুজিবুর রহমান বলেন, শাহ ইসমাইল ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে এ ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধের ফল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি 









