এম এস সিদ্দিকী | সিলে
সিলেট-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীদের সরব প্রচারণায় শহর থেকে গ্রাম, হাটবাজার থেকে চা দোকান সবখানেই নির্বাচনের আলোচনা এখন শীর্ষে।
ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে দুই ‘নট আউট’ নেতার মধ্যে। তারা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত কার হাসি ফুটবে, তা নির্ধারণ করবেন সীমান্ত জনপদের প্রায় চার লক্ষ ভোটার।
ভোটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান তাকে ‘ডিপ্লোমেটিক লিডার’ বলে অভিহিত করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালেও দলটির প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে তিনি টানা দুইবার সিলেট সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তে অংশ না নিলেও এবার সিলেট-৪ আসনে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিশমা দেখাতে প্রস্তুত তিনি এমনটাই বলছেন তার অনুসারীরা।
নির্বাচনের শুরুতে স্থানীয় বিএনপির ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ ও বিভক্তি থাকলেও তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন আরিফ। বর্তমানে প্রকাশ্যে অন্তত ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন নিজ এলাকায় পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। তিনি এই নির্বাচনী এলাকারই বাসিন্দা হওয়ায় ‘স্থানীয় প্রার্থী’ হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তার সমর্থকরাও মাঠে সক্রিয়।
ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা জোরালো হয়েছে। এলাকার আড্ডা, আসর, হাটবাজার ও চা দোকানে ঘুরেফিরে উঠে আসছে নির্বাচনের প্রসঙ্গ। চলছে যুক্তি–তর্ক, বিশ্লেষণ আর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সব দলের প্রার্থীরাই হাটবাজারে গণসংযোগ, গ্রামে উঠান বৈঠক এবং ছোট-বড় সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন এলাকার সমস্যা, দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।
হেভিওয়েট দুই প্রার্থীই উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা, পথসভা ও সরাসরি ভোটার সাক্ষাৎ।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট-৪ আসনে ভোটের মাঠ এখন বেশ জমজমাট। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায় কোন দিকে যায়—সেই অপেক্ষায় সীমান্ত জনপদ।

এম এস সিদ্দিকী 









