, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

ভোটের আগে সিলেটে অস্ত্র-বারুদ আতঙ্ক: ৩৬২ কেন্দ্র অতি ঝুঁকিতে

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সিলেট বিভাগে ততই ঘনীভূত হচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রবেশ বন্ধ করা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের পরিসংখ্যান জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

গত কয়েক দিনে সিলেটে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে বিজিবি সেক্টর কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনেও পৃথক বৈঠকে নির্বাচনি সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে বুধবার সিলেট সফরে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে যান।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজিবির চৌকি, জোরদার করা হয়েছে সোর্স নেটওয়ার্ক। নগর ও গ্রামাঞ্চলে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট ও আন্তঃজেলা তল্লাশি ব্যবস্থা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাব বলছে, গত এক বছরে সিলেট বিভাগে উদ্ধার হয়েছে ৩৮টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেল। পাশাপাশি জব্দ হয়েছে ৭৫টি এয়ারগান এবং ১০৪ রাউন্ড লাইভ গুলি। কার্তুজ ও প্যালেট মিলিয়ে উদ্ধারকৃত গোলাবারুদের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। বিস্ফোরক অংশে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০ কেজি উচ্চক্ষমতার পাউডার ও জেল, ৫৪টি ডেটোনেটর, সাউন্ড গ্রেনেড ও পেট্রোলবোমা। দেশীয় ধারালো অস্ত্রের সংখ্যাও কম নয়।

এসব অস্ত্র কোথা থেকে আসছে, কারা বহন করছে এবং কোথায় মজুত হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নগরীর প্রবেশপথে ব্যারিকেড, নিয়মিত তল্লাশি এবং বৃহস্পতিবার বিজিবির ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান নিয়ে মহড়া তারই অংশ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বিত নিরাপত্তা থাকবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট। রাতে বিশেষ অভিযান, দিনে নজরদারি—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া এই নির্বাচন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, অতীতে প্রকাশ্যে প্রদর্শিত ভারী অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি—এ বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মুহম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দৃশ্যমান গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের গতি আশানুরূপ নয়। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশ্বস্ত করছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন, ডগ স্কোয়াড এবং জিনিয়া অ্যাপ। র‌্যাব ও বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার হবে।

প্রশাসনের দাবি, ভোটের আগের দিনগুলোতে নগর ও গ্রামাঞ্চল থাকবে ‘নিরাপত্তার চাদরে’ ঢাকা। যেকোনো নাশকতা মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের, যেন তারা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

ভোটের আগে সিলেটে অস্ত্র-বারুদ আতঙ্ক: ৩৬২ কেন্দ্র অতি ঝুঁকিতে

প্রকাশের সময় : ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সিলেট বিভাগে ততই ঘনীভূত হচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রবেশ বন্ধ করা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের পরিসংখ্যান জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

গত কয়েক দিনে সিলেটে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে বিজিবি সেক্টর কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনেও পৃথক বৈঠকে নির্বাচনি সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে বুধবার সিলেট সফরে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে যান।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজিবির চৌকি, জোরদার করা হয়েছে সোর্স নেটওয়ার্ক। নগর ও গ্রামাঞ্চলে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট ও আন্তঃজেলা তল্লাশি ব্যবস্থা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাব বলছে, গত এক বছরে সিলেট বিভাগে উদ্ধার হয়েছে ৩৮টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেল। পাশাপাশি জব্দ হয়েছে ৭৫টি এয়ারগান এবং ১০৪ রাউন্ড লাইভ গুলি। কার্তুজ ও প্যালেট মিলিয়ে উদ্ধারকৃত গোলাবারুদের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। বিস্ফোরক অংশে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০ কেজি উচ্চক্ষমতার পাউডার ও জেল, ৫৪টি ডেটোনেটর, সাউন্ড গ্রেনেড ও পেট্রোলবোমা। দেশীয় ধারালো অস্ত্রের সংখ্যাও কম নয়।

এসব অস্ত্র কোথা থেকে আসছে, কারা বহন করছে এবং কোথায় মজুত হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নগরীর প্রবেশপথে ব্যারিকেড, নিয়মিত তল্লাশি এবং বৃহস্পতিবার বিজিবির ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান নিয়ে মহড়া তারই অংশ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বিত নিরাপত্তা থাকবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট। রাতে বিশেষ অভিযান, দিনে নজরদারি—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মনে করেন, দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া এই নির্বাচন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, অতীতে প্রকাশ্যে প্রদর্শিত ভারী অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি—এ বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মুহম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দৃশ্যমান গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের গতি আশানুরূপ নয়। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনাও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশ্বস্ত করছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন, ডগ স্কোয়াড এবং জিনিয়া অ্যাপ। র‌্যাব ও বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার হবে।

প্রশাসনের দাবি, ভোটের আগের দিনগুলোতে নগর ও গ্রামাঞ্চল থাকবে ‘নিরাপত্তার চাদরে’ ঢাকা। যেকোনো নাশকতা মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের, যেন তারা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।