সিলেটের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও চ্যালেঞ্জিং আসনে পরিণত হয়েছে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার)। এই আসনকে ঘিরেই এখন জামায়াতে ইসলামীর সব হিসাব-নিকাশ। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই আসনে কোনো ছাড় নেই। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সেলিম উদ্দিনের ওপরই ভরসা রাখছে জামায়াত।
শুরুতে সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন সিলেট মহানগরের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তবে কৌশলগত সিদ্ধান্তে হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিনকে সামনে আনা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি বড় চমক হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, সংগঠন পরিচালনা ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণে সেলিম উদ্দিনকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জামায়াত ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে। ফলে হাতে থাকা বাকি তিন আসনের মধ্যে সিলেট-৬ হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নেতারা একে ‘ডু অর ডাই’ আসন হিসেবেই দেখছেন। এজন্য প্রচারণা, সাংগঠনিক তৎপরতা ও কর্মী সমাবেশ—সব দিকেই বাড়তি জোর দিচ্ছে জামায়াত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেলিম উদ্দিন এরই মধ্যে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে ভালো প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তার মূল লক্ষ্য নিরপেক্ষ ভোট ব্যাংক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। গ্রাম থেকে ওয়ার্ড—সব জায়গায় নিয়মিত উঠান বৈঠক ও জনসংযোগ চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি সিলেটে সফরকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হককে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে যান সেলিম উদ্দিন। এটিকে জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন ইসলামী দল ও সমমনা ভোটারদের একত্রিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
তবে নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে সেলিম উদ্দিন আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংক্রান্ত ওই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভোটার মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোও সিলেট-৬ কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রশাসনের নজরও রয়েছে এই আসনের ওপর। ভোটের পরিবেশ, বহিরাগতদের আনাগোনা ও সম্ভাব্য চাপের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন রয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
সব মিলিয়ে, সিলেট-৬ এখন জামায়াতের জন্য মর্যাদার লড়াই। দলীয় শক্তি, সংগঠন ও কৌশল সবকিছু দিয়েই এই আসনে জয় ছিনিয়ে নিতে চায় জামায়াত। শেষ পর্যন্ত সেলিম উদ্দিন কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জুনেদ আহমদ 









