, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুচাপায় যুবকের মৃত্যু সিলেটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধার মৃত্যু সৈয়দুর রহমানের কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইরান ইরানের মিসাইল হামলায় দুবাইয়ে বড়লেখার প্রবাসী সালেহ মিয়া নিহত যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালাল ইরান দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের বিকল্প নেই : সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের বালাগঞ্জে নৃশংস হামলা: ছাত্রদল কর্মী শাহ ইসমাইলকে কুপিয়ে হত্যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

মামলা-জেলের বেড়াজাল পেরিয়ে ভোটের মাঠে সিলেটের প্রার্থীরা

সিলেট বিভাগের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা। বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মোট মামলা ২৬৮টি যার প্রায় সবই করা হয়েছে বিগত সরকারের শাসনামলে। অভিযুক্ত প্রার্থীদের দলগুলোর দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসার ফল।

নির্বাচনী মাঠে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি ও জামায়াতের। তবে মামলার ভার কাঁধে নিয়েই তারাই এখন সিলেটের রাজনীতিতে সবচেয়ে সক্রিয় ও আলোচিত মুখ।

স্পর্শকাতর মামলার আসামি, তবু প্রচারণার শীর্ষে

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী সেই তালিকার অন্যতম। সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা এবং সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা প্রচেষ্টার মতো আলোচিত মামলার আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর বর্তমানে সব মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন।

দলের ভেতরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুরুতে টানাপোড়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আরিফুল হকই হন সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী। একসময় যিনি ছিলেন বিদ্রোহের কেন্দ্র, সেই আসনেই এখন প্রচারণার মূল আকর্ষণ তিনি। দলীয় ও ভিন্নমতের নেতাদের একসঙ্গে নিয়ে কখনো জাফলংয়ের পাহাড়ে, কখনো গোয়াইনঘাটের হাওড়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে।

তার বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলার মধ্যে ৯টি বিচারাধীন এবং একটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছে, মামলার সংখ্যা নয়—জনগণের পাশে থাকার মানসিকতাই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে মুখ্য।

এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন।

হবিগঞ্জে জেল–জুলুমের গল্পেই জনসমর্থন

হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র জিকে গউছের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গউছের নামে মোট ২০টি মামলা ছিল—এর মধ্যে ১৪টি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, ৬টি মামলা এখনো চলমান।

শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় একসময় আরিফুল হকের সঙ্গে অভিযুক্ত থাকা এই নেতা দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। তবে সেই অতীতই এখন তার প্রচারণার মূল শক্তি। জনসভায় উঠে তিনি নিয়মিত তুলে ধরছেন কারাবরণের অভিজ্ঞতা ও সরকারের দমননীতির বর্ণনা। এসব বক্তব্যে সাড়া দিচ্ছেন ভোটাররাও। মামলা থাকা সত্ত্বেও তার নির্বাচনী তৎপরতায় কোনো ভাটা নেই।

হবিগঞ্জজুড়ে তার পথসভা ও জনসভাগুলো পরিণত হচ্ছে উৎসবে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কাজী মহসিন আহমদ।

৪৪ মামলা নিয়েও মাঠে সক্রিয় সেলিম উদ্দিন

সিলেট-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৪৪টি। তবে দলটির দাবি, এর প্রায় সবই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। বর্তমানে মাত্র একটি মামলা বিচারাধীন, বাকিগুলো থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

জামায়াত তাদের প্রচারণায় এটিকে প্রার্থীর সততা ও নির্দোষতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে এই আসনে সেলিম উদ্দিনের লড়াই জমে উঠেছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮টি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মোট মামলা ৩৪৬টি। এর মধ্যে ২৮৫টি মামলায় তারা খালাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৬১টি মামলা বিচারাধীন।

সব মিলিয়ে মামলা ও রাজনীতির এই যুগপৎ লড়াইয়ে সিলেটের নির্বাচনী মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছে, অতীতের মামলা নয়—ভবিষ্যতের নেতৃত্বই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেটে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

মামলা-জেলের বেড়াজাল পেরিয়ে ভোটের মাঠে সিলেটের প্রার্থীরা

প্রকাশের সময় : ০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

সিলেট বিভাগের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা বিপুলসংখ্যক মামলা। বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মোট মামলা ২৬৮টি যার প্রায় সবই করা হয়েছে বিগত সরকারের শাসনামলে। অভিযুক্ত প্রার্থীদের দলগুলোর দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসার ফল।

নির্বাচনী মাঠে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি ও জামায়াতের। তবে মামলার ভার কাঁধে নিয়েই তারাই এখন সিলেটের রাজনীতিতে সবচেয়ে সক্রিয় ও আলোচিত মুখ।

স্পর্শকাতর মামলার আসামি, তবু প্রচারণার শীর্ষে

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী সেই তালিকার অন্যতম। সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা এবং সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা প্রচেষ্টার মতো আলোচিত মামলার আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর বর্তমানে সব মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন।

দলের ভেতরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুরুতে টানাপোড়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আরিফুল হকই হন সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী। একসময় যিনি ছিলেন বিদ্রোহের কেন্দ্র, সেই আসনেই এখন প্রচারণার মূল আকর্ষণ তিনি। দলীয় ও ভিন্নমতের নেতাদের একসঙ্গে নিয়ে কখনো জাফলংয়ের পাহাড়ে, কখনো গোয়াইনঘাটের হাওড়ে ছুটছেন ভোটারদের কাছে।

তার বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলার মধ্যে ৯টি বিচারাধীন এবং একটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছে, মামলার সংখ্যা নয়—জনগণের পাশে থাকার মানসিকতাই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে মুখ্য।

এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন।

হবিগঞ্জে জেল–জুলুমের গল্পেই জনসমর্থন

হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র জিকে গউছের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গউছের নামে মোট ২০টি মামলা ছিল—এর মধ্যে ১৪টি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, ৬টি মামলা এখনো চলমান।

শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় একসময় আরিফুল হকের সঙ্গে অভিযুক্ত থাকা এই নেতা দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। তবে সেই অতীতই এখন তার প্রচারণার মূল শক্তি। জনসভায় উঠে তিনি নিয়মিত তুলে ধরছেন কারাবরণের অভিজ্ঞতা ও সরকারের দমননীতির বর্ণনা। এসব বক্তব্যে সাড়া দিচ্ছেন ভোটাররাও। মামলা থাকা সত্ত্বেও তার নির্বাচনী তৎপরতায় কোনো ভাটা নেই।

হবিগঞ্জজুড়ে তার পথসভা ও জনসভাগুলো পরিণত হচ্ছে উৎসবে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের কাজী মহসিন আহমদ।

৪৪ মামলা নিয়েও মাঠে সক্রিয় সেলিম উদ্দিন

সিলেট-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৪৪টি। তবে দলটির দাবি, এর প্রায় সবই রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। বর্তমানে মাত্র একটি মামলা বিচারাধীন, বাকিগুলো থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন।

জামায়াত তাদের প্রচারণায় এটিকে প্রার্থীর সততা ও নির্দোষতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে এই আসনে সেলিম উদ্দিনের লড়াই জমে উঠেছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮টি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। মোট মামলা ৩৪৬টি। এর মধ্যে ২৮৫টি মামলায় তারা খালাস পেয়েছেন এবং বর্তমানে ৬১টি মামলা বিচারাধীন।

সব মিলিয়ে মামলা ও রাজনীতির এই যুগপৎ লড়াইয়ে সিলেটের নির্বাচনী মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছে, অতীতের মামলা নয়—ভবিষ্যতের নেতৃত্বই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।